৭২ ঘন্টার মধ্যে নারদ-কাণ্ডের সত্যতা তুলে আনবে সিবিআই: হাইকোর্ট

ছবির সত্যতা যাচাই করেনি kolkata24x7.com

কলকাতা:  নারদা-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।  আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নারদ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সিবিআইকে সংগ্রহ করার নির্দেশ।  শুধু তাই নয়, নথি সংগ্রহ করার ৭২ ঘন্টার মধ্যে নারদ রহস্যভেদ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।  ৭২ ঘন্টার মধ্যে যে তদন্ত উঠে আসবে তাও আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

পাশাপাশি আদালত এই নির্দেশে আরও জানিয়েছে যে, নারদে পুলিশের ভূমিকা মোটেই সঠিক ছিল না।  এমনকি, তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম মির্জার ভূমিকাও সঠিক নয়।  তাই এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে আদালতের নির্দেশ,  অবিলম্বে এস এম মির্জাকে বরখাস্ত করা হোক।  একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ আদালতের।

নারদে পুলিশের ভূমিকা মোটেই সঠিক ছিল না।  এমনকি, তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম মির্জার ভূমিকাও সঠিক নয়।  তাই এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে আদালতের নির্দেশ,  অবিলম্বে এস এম মির্জাকে বরখাস্ত করা হোক।  একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ আদালতের।

- Advertisement -

নির্দেশ জানানোর পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নারদ স্টিং ভিডিও বিকৃত নয়।  একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা মানুষের আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।  এত বড় দুর্নীতির সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।  তবে রাজ্য পুলিশকে দিয়ে কখনই এই মামলার তদন্ত করা যাবে না।  কারণ,  এই ঘটনার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে একজন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের।  সুতরাং, কখনই রাজ্যপুলিশকে দিয়ে এই মামলা তদন্ত করা যাবে না।  এই মামলার রহস্যভেদ করতে সিবিআইয়ের মতো নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থাই প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হয়।  দাবি করা হয় স্টিং অপারেশনটি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে।  যেখানে, গোপন ক্যামেরায় নারদ সিইও ম্যাথু স্যামুয়েল যে ছবি তুলে ধরেছেন তাতে দেখা গিয়েছিল, মুকুল রায়, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ঘুষ নিচ্ছেন।  সেখানে একজন আইপিএস অফিসারকেও এক নেতার হয়ে ঘুষ নিতে দেখা যায়।  এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়। মামলাতে সিবিআই তদন্তের জন্য আবেদনও করা হয়।  সেই মামলার শুনানি চলে প্রায় এক বছর ধরে।  রাজ্য সরকার ও অভিযুক্ত নেতাদের আইনজীবীরা সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করেন।  তাঁরা পুলিশকে দিয়েই এই তদন্ত করানোর সওয়াল করেন।  কিন্তু এই স্টিং অপারেশনে একজন পুলিশ অফিসারও অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।  শেষমেশ, আদালত সিবিআইকে তদন্তভার তুলে দেয়।

তবে এই নির্দেশের ফলে তৃণমূলের উপর যে চাপ বাড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সেই ভিডিও ফুটেজটি দেখতে হলে ক্লিক করুন

এই সংক্রান্ত আরও খবর পড়ুন

১. ‘সারদা-নারদের নেত্রী এখন বিরোধীদের নেত্রী’

২. ‘মোদীভাই-দিদিভাই’ তত্ত্ব উড়িয়ে বিজেপির দাবি, নারদকাণ্ডে সম্ভবত সিবিআই

৩. ‘সৎ হলে অবিলম্বে নারদ-কাণ্ডে সিবিআই চান মমতা’

৪. নারদ নিউজের ৪৭টি ফুটেজ বৈধ বলছে ফরেনসিক ল্যাবরেটরি

Advertisement ---
---
-----