দেবময় ঘোষ, কলকাতা: পনেরো মিনিট আগে জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাইছেন যে তিনি মঞ্চে এসে ভাষণ দিন৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ তাঁকে এই কথা জানান৷ বিনা প্রস্তুতিতে মঞ্চে গিয়ে মুকুল রায় যা বলেছেন, তারপর তিনি বেশ খুশি৷ রাজনৈতিক নেতাদের সময়জ্ঞান নিখুঁত হওয়া উচিত৷ শনিবার বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে মুকুলের ‘টাইমিং সেন্স’-এর তারিফ করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব৷

রাজ্য বিজেপি থেকে একমাত্র মুকুলকেই মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ মুকুল ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘দাদা জানতেন না বক্তব্য রাখতে হবে৷ তৈরিও ছিলেন না৷ বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে ছিলেন৷ ‘কল’টা আসে শীর্ষ নেতৃত্বের থেকেই৷ তারপর সবাই দেখেছেন, অমিত শাহজিই দাদাকে মঞ্চে ডেকে নেন৷ পরে আমরা জানতে পারি, মোদীজিই দাদাকে শুনতে চেয়েছেন৷’’

মঞ্চে উঠে মুকুল বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করে তিনি যে পাপ করেছেন, তার প্রায়শ্চিত্ত করছেন৷ ঠিক যেমন হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে থেকে পাপের প্রয়শ্চিত্ত করেছেন৷ মুকুল আরও বলেন, বাংলায় গণতন্ত্র নেই৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে ১০০ জন রাজনৈতিক কর্মী বাংলায় খুন হয়েছেন তাদের মধ্যে বিজেপির ৪৮ জন রয়েছেন৷

তবে সব থকে গুরুত্বপূর্ণ হল, মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুল রায় বলেছেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বাংলায় ২০টির বেশি আসন অতিক্রম করতে পারবে না৷ আমি তা কথা দিচ্ছি’’ মোদীর সামনে দাঁড়িয়ে মুকুল অতবড় যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, তা বাংলায় মুকুল অনুগামী বিজেপি কর্মীদের নতুনভাবে চাগিয়ে তুলেছে৷ অনেকেই বলছেন, ‘‘ মোদীজি শুধু মুকুলদাকেই মঞ্চে ডেকেছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন, বাংলায় মোদীর লোক কে৷ বাংলায় তৃণমূলকে ২০টি আসনের মধ্যে আটকানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন মুকুলদা৷’’

২০১৭ সালের ৩ নভেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পাকাপাকি ভাবে ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের বাসিন্দা হয়েছেন মুকুল৷ বিজেপিতে তখন তিনি পদহীন নেতা হিসেবেই যোগদান করেন৷ তবে পদ না থাকলেও নির্বাচন এবং সংগঠনের গুরুদায়িত্ব মুকুলকেই সামলাতে হয়েছিল৷ তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেছেন মুকুল৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে মুকুল রায়কে বিজেপির পঞ্চায়েত নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক হয়৷ অমিত শাহ তাঁকে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব দিয়ে যে কোনও ভুল করেনি তা বুঝিয়েছেন মুকুল৷ সন্ত্রাসের মুখেও বিজেপি প্রায় ৭ হাজার আসন পেয়েছে৷

তবে অনেকেই বলে থাকেন, বিজেপিতে বড় পদে চাকরি করছেন তিনি৷ পারফরম্যান্স দিয়েই তাঁকে নিজেকে বারবার প্রমাণ করতে হয়৷ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে সফল ভাবে দলে টেনে আবার প্রমাণ করেছেন৷ বলা হয়, মমতার জামানায় বিজেপিকে ভোটের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করেছেন মুকুল৷ রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক অস্তিত্ব থাকলেও নির্বাচনের সাফল্য পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছিল৷

সেক্ষেত্রে, বামেরা যা পারেননি, সেই কাজই করে দেখিয়েছেন তিনি৷ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মমতাকে৷ আর সেই কারণেই পার্টিতে মুকুলের পারফরম্যান্স উর্ধমুখী৷ কিছুদিন আগেই জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন মুকুল৷ বর্তমানে তিনি বিজেপির নির্বাচন পরিচালন কমিটিরও চেয়ারম্যান৷

--
----
--