‘কাশ্মীর ইস্যুতে বাজপেয়ীর দেখানো পথই অনুসরণ করা উচিত মোদীর’

শ্রীনগর: শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি, এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি মঙ্গলবার এই বিষয়ে আবেদন জানিয়ে বলেন, কাশ্মীরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত৷

পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি এও জানান, ভারত-পাকিস্তান, এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে নরেন্দ্র মোদীকে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর দেখানো পথেই চলা উচিত৷

পড়ুন: পাকিস্তানের ১৩ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত চিকিৎসক আরিফ আলভি

- Advertisement -

রাজৌরিতে একটি জনসভাতে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মুফতি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিস্থাপন তখনই সম্ভব যখন জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি স্থাপিত হবে৷ তাঁর মতে, যখন বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ভূস্বর্গ সমৃদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর পরেও তাঁকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল৷ পিডিপির ১৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এক জনসভায় তিনি জানান, বিজেপির সঙ্গে জোটে যাওয়া বিষপানের সমান ছিল তাঁর কাছে৷

প্রসঙ্গত, রমজানের মধ্যেই বর্ষীয়ান সাংবাদিক শুজাত বুখারিকে গুলি করে হত্যা, পাশাপাশি জওয়ান ঔরঙ্গজেবকে অপহরণ করে তাকেও হত্যা করে জঙ্গিরা৷ উপত্যকায় সংঘর্ষবিরতি জারি থাকাতেও কোনও প্রভাব পড়েনি৷ কমেনি পাক সেনার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অথবা জঙ্গিদের সন্ত্রাস৷ জম্মু ও কাশ্মীরে জোট সরকারে দলের সব বিধায়ককে চলতি বছরে জুনে, হঠাৎ করেই দিল্লিতে বৈঠকে ডাকেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রাজধানীতে হাজির হতে বলা হয় তাঁদের সবাইকে।

পড়ুন: এশিয়াডে পদকজয়ীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী

জম্মু ও কাশ্মীরে রমজান শেষ হতেই সংঘর্ষবিরতি বা জঙ্গি দমন অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি সভাপতির দলীয় মন্ত্রী, শীর্ষ নেতাদের জরুরি তলব ঘিরে তীব্র কৌতূহল, জল্পনা তৈরি হয়। এরপরই বিজেপি ঘোষণা করে, যে তারা আর পিডিপি-র সঙ্গে থাকছে না।

ঘোষণার পর, বিজেপির তরফ থেকে রাম মাধব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সুজাত বুখারি কিংবা ঔরঙ্গজেবকে হত্যার মত নৃশংস ঘটনার পর কেন্দ্রের পক্ষে আর সংঘর্ষ বিরতি জারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিজেপি কাশ্মীরে শান্তি ও উন্নয়ন চায় বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন, কাশ্মীরের জন্য ৮০,০০০ কোটির প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সীমান্তে ৪০০০ বাংকার তৈরির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।

Advertisement
-----