মমতাকে আরও পিছনে ফেলে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে ফের মোদী

কলকাতা: একদিকে, রাফায়েল নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত মোদী সরকার। অন্যদিকে, টাকা আর তেলের উর্দ্ধমুখী দামের সাঁড়াশি চাপ। লোকসভা নির্বাচনের হাতে গোনা কয়েকমাস আগে প্রাণ ওষ্ঠাগত শাসক থেকে বিরোধী প্রত্যেকের।

মাটি কামড়ে থাকতে মরিয়া বিজেপি সরকার আর তাদের উপড়ে ফেলতে যুদ্ধের জন্য এককাট্টা বিরোধীরা। ফেডেরাল ফ্রন্ট নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আগেই। তবে এসব টানাপোড়েনের মধ্যে ‘ডিজিটাল’ ভারতবাসীর রায় গেল মোদীর পক্ষেই। অনেকটাই পিছনে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

I-PAC নামে একটি সংস্থা ‘ন্যাশনাল পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ নামে এক বিশেষ সমীক্ষা চালু করেছিল গত মাসে। সমীক্ষার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন মোদী। বিরোধীরা ছিলেন অনেক পিছনে। এক মাস পরও সেই ছবিটাই সামনে এল। বিকল্পরা শতাংশের হিসেবে অনেকটাই পিছিয়ে। তবু দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একগুচ্ছ নেতা-নেত্রী রয়েছে সেই তালিকায়।

- Advertisement -

এখনও পর্যন্ত মোদী ৫৭ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৭৫ জন ভোট দিয়েছেন। ২৯ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ওই সমীক্ষা। এই ফোরামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৪ লক্ষ ৮৫হাজার মানুষ, ২৮৩টি সংস্থা। এখনও পর্যন্ত যে সমীক্ষা হয়েছে, তার হিসেব বলছে, নরেন্দ্র মোদী পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোট। তার ঠিক পরেই রয়েছেন রাহুল গান্ধী, যদিও অনেকটাই পিছিয়ে। রাহুলের প্রাপ্ত ভোট ১১.২ শতাংশ। ৯.৩ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় স্থানে অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর তারপর রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৭ শতাংশ।

মাস খানেক আগেও এই স্থানে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাস খানেকে পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে ৪.২ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃণমূলনেত্রী পঞ্চম স্থানে। তাঁর ঠিক পরেই মায়াবতী। এই সমীক্ষার হিসেব বলছে, বাকি পাঁচজনের মোট ভোট যোগ করেও মোদীকে টপকানো যাচ্ছে না। তাই লড়াইটা যে বেশ কঠিন, সেই ইঙ্গিত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

শুধু নেতা বা নেত্রী বাছাই নয়, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে বেছে দিতে পারবেন, কী হবে তাঁর অ্যাজেন্ডা। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে গান্ধীজি যে ১৮টি পথের কথা বলে গিয়েছিলেন, সেগুলিকে অ্যাজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমতার মত বিষয়গুলি রয়েছে সেখানে। আগামী প্রধানমন্ত্রী আগেই বুঝে যাবেন, কোন অ্যাজেন্ডাকে হাতিয়ার করে এগোতে হবে তাঁকে।

তবে সমীক্ষা যাই বলুক, ১২৫ কোটির রায় কার দিকে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা মাস।

Advertisement ---
---
-----