জাতীয় সঙ্গীতে সুর বেঁধে হিট প্রবাসী এই বাঙালি মেয়ে

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সরোদে জাতীয় সঙ্গীতের সুর বেঁধে সারা জাগাচ্ছেন বাঙালি কন্যা। মেয়ে মুম্বইবাসী। কিন্তু বাবার বাড়ির সূত্রে যোগ মহানগরের সঙ্গে। সেই সূত্রেই গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুরের সূত্রে কলকাতার কন্যে শাওন এবার বানিয়ে ফেলেছেন জাতীয় সঙ্গীত। যা ইতিমধ্যেই হিট।

বাংলায় লেখা পড়ার অভ্যাস নেই বললেই চলে। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে যোগ নেই। হেমন্ত মান্নার বাংলা গান বিশেষ শোনা হয়ে ওঠে না। বিবাহসূত্রে দক্ষিণ ভারতীয়। কিন্তু তাঁর গাওয়া ও সুর করা বাংলা রেসিপিতে মত্ত নেটিজেন। এক ক্লিকেই শাওন দত্ত প্রবেশ করে ফেলেছেন বাঙালির হেঁশেলে। বাঙালিকে গানের সুরে শিখিয়েছেন মাছের ঝোল থেকে শুরু করে আলু পোস্ত রান্না। তবে এই হেঁশেল যাত্রার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল সুরের যাত্রা। সেই সুর বেঁধেই হাত দেওয়া জাতীয় সঙ্গীতের সুরের উপস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা। সুরের সরোদের সঙ্গত উস্তাদ আমজাদ আলি খাঁয়ের দুই পুত্র উস্তাদ অমন আলি বঙ্গশ ও উস্তাদ আয়ান আলি বঙ্গশ। উস্তাদ আমজাদ আলি নিজেও বাজিয়েছেন জাতীয় সঙ্গীতে।

- Advertisement -

নামি মোবাইল পরিষেবা সংস্থার ইউটিউব চ্যানেলে ইতিমধ্যেই হিট এক মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ‘জন গন মন’-র মিউজিক ভিডিও। যেখানে অমন, আয়ান, পণ্ডিত আমজাদ আলি খান জাতীয় সঙ্গীতের সুর তুলেছেন সরোদের মাধ্যমে। কিন্তু এই চতুর্ভুজের যোগসূত্রের শুরুটা কিভাবে হল? শাওনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কথা হয় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার মারফত। এ কথা সে কথার মাঝেই শাওন প্রকাশ করেন জাতীয় সঙ্গীত ‘রহস্য’।

সঙ্গীত জগতে মাল্টি ট্যালেন্টেড এক সময়ে শাওন পুরোদমে চাকরি করেছেন৷ পরে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ। সেই সূত্রেই পরিচয় অমন ও অয়নের সঙ্গে। শাওন বলেন, “আমি গত দুই দশক ধরে ওঁদের সঙ্গে কাজ করছি। এই যে জাতীয় সঙ্গীতের কাজটা সেটা ২০১৫ সালের। তখন আমার ইউ টিউব চ্যানেলে। ছেড়েছিলাম। এখন এটা মুক্তি পাচ্ছে।” মজার সুরে শাওন বললেন, “খুব একটা বেশি সময় লাগেনি কিন্তু। মাত্র তিন বছর।”

একইসঙ্গে শাওন বলেন, “এটা ছিল এর পূর্ব কথা। এবার যদি আসল কাজটার কথা বলা হয় তাহলে বিষয়টা পুরো সাজাতে সময় লেগেছে সপ্তাহ খানেক। ওনারা মেট্রোনামের মাধ্যমে বাজিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দেন।” এরপরের কেরামতিটা পুরোপুরি শাওনের। ওই মেট্রোনামের উপর মিউজিক্যাল অ্যাম্বিয়েন্স, হারমনি, পিয়ানো আরও যতরকম সুরের কারিকুরি রয়েছে সমস্ত মিশিয়েছেন। পাঁচ ফোঁড়নে যোগ হয়েছে ভিডিও। বাঙালি মেয়ের হাতে ‘রান্নার’ স্বাদ যে অনবদ্য তা বুঝিয়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

ধ্রুপদী পাশ্চাত্য সঙ্গীতে শাওনের জ্ঞান বিপুল। পিয়ানো এবং অপেরাটিক ভোকাল শিখেছেন। স্বামীর থেকে শিখেছেন অডিয়ো এবং মিউজিক টেকনোলজি। নিয়মিত কাজ করেন বিজ্ঞাপন , চলচ্চিত্র , থিয়েটার , ইনস্টলেশন , টিভি শোতে (এই তালিকায় কেবিসি রয়েছে)। কেরিয়ারের গোড়াতেই ‘ইন্ডিয়ান ওশান ’-এর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরে বহু অ্যালবামে কাজ করেছেন উস্তাদ আমজাদ আলি খান , আমান ও আয়ান আলি বঙ্গশের সঙ্গে৷ ‘

অনলাইনে ‘বঙ্গজীবনের অঙ্গ বোরোলিন ’ প্রথম গান। প্রথমেই বিপুল জনপ্রিয়তা। তারপরেই হাজির হওয়া ‘মাসিমা’ রূপে বাঙালি খানা খাজানা নিয়ে। ইন্টারনেটে আপাতত শাওনের অবাধ বিচরণ। তাঁতের শাড়ি , মোটা কালো ফ্রেমের চশমা, খোঁপা আর লাল টিপে হট কেক তাঁর প্রত্যেকটি বাঙালি রেসিপি ভিডিও। ইউটিউবে শাওনের সাবস্ক্রাইবার ক্রমশ বাড়ছে৷ জাতীয় সঙ্গীতে নয়া অ্যারেঞ্জমেন্টও শীঘ্রই প্রবেশ করবে সেই তালিকায়।

Advertisement ---
---
-----