প্রতীকী ছবি৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: গাফিলতি ছিল বামফ্রন্ট আমলে৷ গাফিলতি রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও৷ আর, তার জেরেই, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এখন দিশাহীন! এবং, ওই কারণে, এই বাংলার সাধারণ মানুষ এখন ভুগছেন চরম হতাশায়!

কারণ, কোন পথে সুরক্ষিত থাকবে খাদ্যের অধিকার, সেই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ-প্রশ্ন ক্রমে আরও বাড়ছে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ রেশন কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে এ রাজ্যে এখন চরম ‘অরাজকতা’ চলছে৷ যার জেরে, খাদ্যের অধিকার সুনিশ্চিতে এ রাজ্যের বহু মানুষ বাদ থেকে যাচ্ছেন৷ দাবি, এমনই সব৷ আর, ওই সব দাবির উপর ভিত্তি করে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রাজ্য জুড়ে চলবে বিক্ষোভ৷ ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লকে ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এসইউসিআই-এর নেতা-কর্মী-সমর্থকরা৷

রেশন কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সোমবার অবশ্য চিঠিতে আর্জি জানিয়েছেন এ রাজ্যে এসইউসিআই-এর একমাত্র বিধায়ক তরুণকান্তি নস্কর৷ মুখ্যমন্ত্রীকে ই-মেলে পাঠানো ওই আর্জিতে এমন জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এনএফএসএ এবং আরকেএসওয়াই-এর যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে বাদ পড়েছে বহু মানুষের নাম৷ তার উপর, বহু মানুষের ভুল নাম-ও ছাপা হয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গের কত সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে ওই তালিকা থেকে? www.kolkata24x7.com-কে বিধায়ক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘জয়নগর দুই নম্বর ব্লকের ২,৬১,২০৬ জনের মধ্যে ৬৭,৪৩৩ জনের নাম নেই ওই তালিকায়৷ জয়নগর এক নম্বর ব্লকের অবস্থাও একই রকম৷’’image.02

একই সঙ্গে জয়নগরের এসইউসিআই-এর ওই বিধায়ক বলেন, ‘‘এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জয়নগরের মতো অনুপাত রয়েছে৷ তাই, তালিকায় নাম না থাকা সঠিক মানুষের সংখ্যাটা অনেক হবে৷’’ সমস্যার শেষ এখানেও নয়৷ তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী-ও সংশ্লিষ্ট তালিকায় নেই বহু মানুষের নাম৷ যেমন, খুব গরিব কোনও ব্যক্তির নাম অন্ত্যোদ্বয় যোজনার তালিকায় থাকার কথা৷ অথচ, ওই ব্যক্তির নাম রয়েছে আরকেএসওয়াই-২-য়ে৷ তার উপর, রেশন ব্যবস্থা আগে ছিল সপ্তাহের ভিত্তিতে৷ কিন্তু, নতুন ব্যবস্থায় এখন মাসিক ভিত্তিতে হওয়ায়, মোট প্রাপ্ত খাদ্যের পরিমাণও কমে গিয়েছে৷’’

পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক অঞ্চল রয়েছে, যেখানে রেশন পেতে হলে কোনও বাসিন্দাকে এখন বাড়ি থেকে ১৫-২০ কিমি দূরে যেতে হবে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ রেশনের জন্য একই পরিবারের-ই বিভিন্ন সদস্যকে যেতে হবে বিভিন্ন ডিলারে কাছে৷ ডিজিটাল কার্ড পাওয়ার পরেও রেশন পাচ্ছেন না অনেক মানুষ৷ এমন ধরনের পরিস্থিতির জেরে গোটা রাজ্যের মানুষ দিশেহারা এবং চরম হতাশায় ভুগছেন৷ কেননা, কীভাবে মিলবে সংশোধিত রেশন কার্ড, সেই বিষয়েও বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বহু মানুষ৷ এমনই বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে৷ এবং, ওই সব বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছে৷

বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগ উঠছে, খাদ্য সুরক্ষা আইনের সুবিধা দেরি করে পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ৷ তার পরেও রেশন কার্ড সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে৷ এই প্রসঙ্গে তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘খাদ্য সুরক্ষা আইনের অন্যতম শর্ত ডিজিটাল রেশন কার্ড৷ অথচ, রেশন কার্ডের বিষয়ে এ রাজ্যে চরম অরাজকতা চলছে৷ এ রাজ্যের মানুষ এখন দিশেহারা৷’’ কেন এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল? এই প্রসঙ্গে এসইউসিআই-এর ওই বিধায়ক বলেন, ‘‘এই ধরনের সমস্যার জন্য দায়ি পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য দফতর৷ তবে, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এ রাজ্যের দুই সরকার-ই দায়ি৷’’

২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে লড়েছিল এসইউসিআই৷ খাদ্য সুরক্ষা আইনের সুবিধা যেভাবে বিলম্বে মিলছে এ রাজ্যে, তার পিছনে ভোটব্যাংকের রাজনীতি রয়েছে? তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘কীভাবে মানুষ বাঁচবেন, আমরা এখন সেটাই দেখছি৷ আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে আমরা ডেপুটেশনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি৷’’

_________________________________________________________________

আরও খবর:
(০১) সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বন্ধ সরস্বতী পুজো!
(০২) বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারেও কর্তৃপক্ষের নতিস্বীকার!
(০৩) বাম-জাঠার বিকল্প পথে বুথে বুথে বিজেপির বঙ্গব্রিগেড
(০৪) র‍্যাগিং-সুরক্ষায় বহিষ্কৃতদের ফেরাতে চিঠি পড়ুয়াদের
(০৫) বঙ্গ-জোট জল্পনায় স্বরাজ অভিযানের বিকল্প রাজনীতি
(০৬) ক্রিমিন্যাল কেসে অভিযুক্তের সম্মানে উজ্জ্বল হয় ইমেজ!
(০৭) জিএনএম-এর অবলুপ্তি-অবমূল্যায়নের শিকার নার্সরা!
(০৮) রাজনীতির শিকারে বহিষ্কৃত তিন ইন্টার্ন সহ এক পড়ুয়া!
(০৯) প্রশিক্ষণের পর কোন নামে ডাকা হবে এই ‘ডাক্তার’দের!
(১০) বাঙালি বলে নেতাজিকে হতে দেওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রী!!

_________________________________________________________________

----
--