আদালতের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মেয়ে

ইসলামাবাদ: জেল দশা শেষ হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর মেয়ে মারিয়মের৷ বুধবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেছে৷ নওয়াজের সঙ্গে তাঁর মেয়ে মারিয়ম নওয়াজ ও মারিয়মের স্বামী মহম্মদ সফদারের বিরুদ্ধে সাজার রায়েও স্থগিতাদেশ জারি করেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট৷

গত সপ্তাহেই নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে প্রয়াত হন৷ সেই সময় কিছুদিনের জন্য জেল থেকে ছাড়া পান নওয়াজ ও মারিয়ম৷ তারপরেই এই মুক্তির খবর পেলেন বাবা ও মেয়ে৷

দুর্নীতির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সঙ্গতি বিহীন সম্পত্তি ও দুর্নীতির৷ এই মামলা যখন দায়ের করা হয়, তখন নওয়াজ বিদেশে৷ সঙ্গে তাঁর মেয়ে ও জামাই৷ আয় বহির্ভূত টাকায় ১৯৯০ সালে লন্ডনে নওয়াজ শরিফ একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশে ফিরলেই গ্রেফতার করা হয় নওয়াজ ও তাঁর মেয়েকে৷

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাবাস এবং এই কাজে সহযোগিতার জন্য মেয়ে মারিয়ামকে ৭ বছরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত৷ ২৫ জুলাই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের৷

এরই মধ্যে নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ লন্ডনের হার্লে স্ট্রিট ক্লিনিকে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছিল। ২০১৭ সালে তাঁর গলায় ক্যানসার ধরা পড়ে। কিছুদিন ধরে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে ছিলেন। কুলসুম গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন লন্ডনের হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শরিফ পাকিস্তানের কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁকে যেন এখনই জেলে না পাঠানো হয়। স্ত্রীর দেখাশোনার জন্য তাঁকে লন্ডনে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু আদালত সেই আরজি মঞ্জুর করেনি।

এরই মধ্যে লন্ডনে মৃত্যু হয় কুলসুমের। তাঁর শেষকৃত্যের জন্য সপ্তাহ খানেক আগেই জেল থেকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন বাবা ও মেয়ে। এবার তাঁদের পাকাপাকি ভাবে জেলের বাইরে থাকার নির্দেশ দিল আদালত। আদালতের এই রায়ের পর উৎসবে মাতেন নওয়াজের সমর্থকেরা৷

----
-----