বিস্ফোরণে স্কুল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল মাওবাদীরা

রাঁচি: ঝাড়খন্ডের লাতেহারে মাওবাদী হামলা৷ এবার মাওবাদীদের নিশানায় একটি স্কুল৷ বিস্ফোরণে স্কুলটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল মাওবাদীরা৷ এটি একটি সরকারি স্কুল ছিল বলে খবর৷

কিন্তু কেন স্কুলের ওপর হামলা? পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান ওই স্কুলে বেশ কয়েকটি ঘরে নিরাপত্তা কর্মীরা থাকতেন৷ যৌথ বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জায়গা করা হয়েছিল৷ বাকি ঘরগুলিতে পড়াশুনা চলত৷ ক্লাস হত৷ এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত পড়ুয়ারা ও তাদের অভিভাবকরা৷

মাওবাদীদের পক্ষ থেকে দেওয়া পোস্টারে জানা গিয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালাতেই এই বিস্ফোরণ৷ তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে৷

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া তথ্যে এক পড়ুয়া জানিয়েছে বিস্ফোরণের পর আর মাত্র তিনটি ঘর অবশিষ্ট আছে স্কুলে৷ তাতেই তাদের পড়াশুনা করতে হবে৷ কিন্তু কীভাবে এই তিনটি ঘরে এতজন পড়ুয়ার স্থান সংকুলান হবে, তা নিয়ে চিন্তায় স্কুল কর্তৃপক্ষ৷

আগে স্কুলটিতে ৬টি ঘর ছিল বলে জানাচ্ছে এক ছাত্রী৷ প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীদের এখন একই ঘরে বসে ক্লাস করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তিন বছর আগে এই গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মাওবাদীরা৷ তারপর থেকে আর কোনও চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা এই গ্রামে নেই৷ এবার স্কুলের ওপর হামলা হওয়াতে একাধিক পড়ুয়ার ভবিষ্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল৷

এর আগে, ছত্তিশগড়ের মাওবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেন রাজনাথ সিং৷ মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষমতা নেই বলেই লুকিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে মাওবাদীরা বলে জানান তিনি৷ মাওবাদীদের হামলাকে ‘কাপুরুষচিত’বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

মাওবাদীদের ঠেকাতে‘স্পেশাল ইউনিট’-র কথা ভাবছে কেন্দ্র৷ মাওবাদী প্রভাবিত ছত্তিশগড়ের বাস্তারে কাজ করবে এই স্পেশাল ইউনিট বলে জানা যাচ্ছে৷ ‘বাস্তারিয়া ব্যাটেলিয়ান’ নামের এই ইউনিট ৭৩৯ জনের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গঠিত৷ এরা প্রত্যেকেই বাস্তারের স্থানীয় বাসিন্দা৷ যারা জঙ্গলের রাস্তা সম্পর্কে অবগত৷ স্পেশাল ইউনিট নিয়ে বিশেষ উৎসাহী রাজনাথ সিং৷ বীজাপুর, দান্তেওয়াড়া,নারায়ণপুর ও সুকমা থেকে স্থানীয়দের নিয়ে তৈরি হচ্ছে‘বাস্তারিয়া ব্যাটেলিয়ান’৷

সেনাদের সঙ্গে যৌথ ভাবে মাওবাদী দমনে তৎপর হবে এই বিশেষ স্কোয়াড বলে জানাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ স্কোয়াডটির বিশেষত্ব হল, বাস্তার ব্যাটেলিয়নের ২৪১ সদস্যের ৩৩ শতাংশ মহিলা৷ যারা প্রত্যেকেই সরকারের তরফে সমস্ত সুবিধা পাবেন৷ ৭৩৯ জনের মধ্যে ১৯৮ জনই মহিলা৷

----
-----