নয়াদিল্লি : একে রামে রক্ষে নেই, তায় সুগ্রীব দোসর৷ কাশ্মীর উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলির হাত ধরতে চলেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাওবাদী সংগঠন৷ গোয়েন্দা রিপোর্টে মিলেছে এমনই তথ্য৷ রিপোর্ট বলছে মাওবাদী ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তি জম্মু কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷

জম্মু কাশ্মীরের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার ধরণ বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷ কাশ্মীরে সক্রিয় গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে এমনই তথ্য মিলেছে৷ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে৷

Advertisement

ভীমা কোরেগাঁও বিক্ষোভের পর বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে৷ সেখানেই স্পষ্ট হচ্ছে মাওবাদী জঙ্গি যোগ৷ মঙ্গলবারই মাওবাদী ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় মহারাষ্ট্র পুলিশ৷ পাঁচটি রাজ্যে তল্লাশি চালানো হয়৷

একাধিক সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীকে মহারাষ্ট্রের ভীমা কোরেগাঁও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকা এবং মাওবাদী যোগ থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুনে পুলিশ। হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় মানবাধিকার কর্মী ভারাভারা রাওকে। এছাড়া, দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় গৌতম নওলখাকে। থানে থেকে গ্রেফতার হন অরুণ ফেরেরা। মুম্বাই থেকে ভার্নন গনজালভেস এবং ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় সুধা ভরদ্বাজকে।

গ্রেফতারিই শুধু নয়,এঁদের প্রত্যেকের বাড়িতেই ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, পেন ড্রাইভ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের ভীমা কোরেগাঁওতে চলতি বছরের শুরুর দিনেই দলিতদের সঙ্গে একটি অতি-ডানপন্থী সংগঠনের সংঘর্ষে কার্যত তিনদিন অচল হয়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্র।

এরপেরই গোয়েন্দা রিপোর্টের এই তথ্য পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করছে৷ বিভিন্ন রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনগুলি নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে বলে মত গোয়েন্দাদের৷ এজন্য কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে তারা৷

রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে চলতি বছরের মে মাসে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নকশালপন্থী সংগঠনের ১৫ জন সদস্যকে দেখা গিয়েছে৷ এই তথ্য আরও ভাবাচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে৷ উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ, বাদগাম, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া ও সোপিয়ানের একাধিক জায়গায় এরা গোপনে যাতায়াত করেছে বলেও খবর৷

----
--