কাবুল : এ মাটি রক্তে ভেজা, এ মাটি ক্ষিদের কথা বলে৷ এ মাটিতে ভাল নেই শৈশব, এ মাটি যন্ত্রণার পথ চলে৷ রিপোর্ট ভয়াবহ৷ ৩.৭ মিলিয়ন শিশুর মধ্যে ৬০ শতাংশেরই শিক্ষা জোটে না এই মাটিতে৷ সন্ত্রাসে দীর্ণ, দারিদ্র্যে পূর্ণ আফগানিস্তানের শৈশব বড় হচ্ছে এভাবেই৷ স্কুলের গন্ডী থেকে বহু যোজন দূরে থেকে৷

মেয়ে পড়ুয়াদের কথা তো ছেড়েই দিন, ছাত্রদের কাছেও স্কুলের চৌকাঠ পেরোনো স্বপ্ন৷ যে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না কোনও দিন৷ সন্ত্রাস, দারিদ্র, বাল্যবিবাহ ও কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্যের কারণে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক শিশু স্কুলে যাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

Advertisement

২০০২ সালের পর এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, আর ২০১৮ সালে সেই সংখ্যাটা রীতিমতো আশঙ্কাজনক৷ রবিবার ইউনিসেফ ও আফগান সরকারের শিক্ষামন্ত্রক দ্বারা পরিচালিত এক সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে৷

সন্ত্রাসের কারণে আফগানিস্তানের অনেক স্কুল তাদের পড়াশুনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির ১০ লাখেরও বেশি শিশু কখনও কোনও স্কুলেই পা রাখেনি৷

আফগানিস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মিরওয়াইস বলখি জানিয়েছেন, সাত থেকে ১৭ বছরের প্রায় ৩৭ লাখ শিশু অথবা মোট শিশুর ৫০ শতাংশ স্কুলে যেতে পারছে না। এদের মধ্যে ২৭ লাখই মেয়ে শিশু।২০০১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালিবানদের উচ্ছেদ করা হয়। তালেবানরা নারী শিক্ষার বিপক্ষে। আরেকটি চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের হুমকির কারণে ৫০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷

তালিবান অথবা ইসলামিক স্টেটের নাম উল্লেখ না করে বলখি বলেন, শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আফগানিস্তানের বেশ কিছু প্রদেশে প্রায় ৮৫ শতাংশ মেয়ে স্কুলে যায় না৷ ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসবাদীরা দুটি স্কুলে আগুন লাগিয়ে দেয়৷ এরপরেই আতঙ্কে ১০০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়৷

বিশেষত, যে সব এলাকায় তালিবান শাসন, বা তালিবানদের দৌরাত্ম্য বেশি, সেই সব এলাকায় পুরোপুরি বন্ধ স্কুলে যাওয়া৷ শৈশবের অধিকার সেখানে বাহুল্য৷ জীবন আগে, তারপর তো শিক্ষা৷ এই নীতিতেই এখন নিজের সন্তানদের আগলে রাখেন আফগান অভিভাবকরা৷

----
--