‘দেশের প্রধানমন্ত্রী গোমাংস ও শূয়োরের মাংস খেতেন!’

নয়াদিল্লি: ফের বিতর্কে রাজস্থানের আলওয়ারের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান দেব আহুজা৷ এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে ফেললেন দলকে৷ জ্ঞান দেব আহুজার দাবি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু নাকি গোমাংস খেতেন৷ সঙ্গে খেতেন শূয়োরের মাংসও!

এই বিস্ফোরক মন্তব্যে স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ তবে তাতে আমল না দিয়ে জ্ঞান দেবের দাবি, জওহরলাল নেহেরু পণ্ডিত ছিলেন না৷ এই উপাধি কংগ্রেসের দেওয়া৷ তবে নেহেরু কেন পণ্ডিত ছিলেন না তার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আহুজা৷ তিনি বলছেন, যে ব্যক্তি গোমাংস খান, শূয়োরের মাংস খান, সে কখনও পণ্ডিত হতে পারে না৷ কংগ্রেস চক্রান্ত করে জওহর লাল নেহেরুর নামের আগে পণ্ডিত শব্দ বসিয়েছে৷

শুক্রবার বিজেপির রাজ্য সদর দফতর পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এই মন্তব্য করেন তিনি৷ এছাড়াও কংগ্রেসকে বিভিন্ন ইস্যুতে আক্রমণ করেন৷ তিনি বলেন ভোটে জেতার জন্য বিভেদকে কাজে লাগাচ্ছে কংগ্রেস৷ নিজেদের জেতার ক্ষমতা না থাকায়, নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে কংগ্রেস বলে মত তাঁর৷

এরআগে, রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শচিন পাইলট বলেন রাহুল গান্ধী নিজের ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে মন্দির দর্শনের শিক্ষা পেয়েছেন৷ সেই বক্তব্যের জবাবেই আহুজা এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন৷ আহুজা আরও বলেছেন তিনি যতদূর জানেন রাহুল গান্ধী কখনই নিজের ঠাকুমার সঙ্গে মন্দির দর্শনে যাননি৷ যদি তাঁর তথ্য ভুল হয়, তবে তিনি নিজের পদ ছেড়ে দেবেন৷ কিন্তু সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, যদি শচিন পাইলট ভুল হন, তাহলে তাঁকেও নিজের পদ ছাড়তে হবে৷

তবে এই প্রথম নয়৷ কংগ্রেসকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন আহুজা৷ তিনি বলেছিলেন গোহত্যা সন্ত্রাসবাদের চেয়েও বড় অপরাধ৷ সন্ত্রাসবাদে দু চারজন মানুষ মারা যায়, কিন্তু গোহত্যায় কোটি কোটি হিন্দুর ভাবাবেগকে আঘাত আসে৷ গোমাতা আমাদের আরেক মাতা৷ মায়ের প্রতি ‘দুর্ব্যবহার ও গুণ্ডামি’ এ দেশে বরদাস্ত করা হয় না। তাই এটা সন্ত্রাসবাদের থেকেও বড় অপরাধ।

তিনি বলেন গোহত্যা চললে মানুষ ক্ষেপে যাবেই৷ আর গণপিটুনিও তাই চলবে৷ গোহত্যা বন্ধ না হলে গণপিটুনি বন্ধ করা যাবে না৷

----
-----