চিনের কারণেই কি ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় ভয় নেপালের?

নয়াদিল্লি : ভারতে হতে চলা প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল নেপাল৷ আগামী সপ্তাহে বিমসটেক জোটের দেশগুলির যৌথ মহড়া হতে চলেছে পুনেতে৷ সেই মহড়া থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে নেপাল৷ শনিবার এক প্রেস বিবৃতিতে এমনই জানিয়েছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির মিডিয়া উপদেষ্টা৷

জুন মাসে এই মহড়ার তথ্য দিয়ে নেপালকে আহ্বান জানিয়েছিল ভারত৷ জানানো হয়েছিল ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পুনেতে বিমসটেকের দেশগুলির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া রয়েছে ৷ তবে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করল নেপাল৷

বিমসটেক কথাটির অর্থ দ্য বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টেরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন। এই গোষ্ঠীভুক্ত দেশলির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ৷ বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড ও ভূটান রয়েছে বিমসটেকে৷
নয়াদিল্লিতে এই বিষয়ক একটি বৈঠক হয়৷

- Advertisement -

বিমসটেকের দেশগুলির সেনাপ্রধানদের নিয়ে আয়োজিত হওয়া ওই বৈঠকের পরেই যৌথ মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ তবে নেপালের পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়৷ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা কুন্দন আরিয়াল জানিয়ে দেন নেপাল এই সপ্তাহব্যাপী সামরিক মহড়ায় যোগ দেবে না৷ এই ঘটনায় বেশ বিস্মিত গোষ্ঠীভুক্ত অন্যান্য দেশগুলি৷

এই সিদ্ধান্তই নেপাল সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়ে দিয়েছেন কুন্দন আরিয়াল৷ তবে ঠিক কেন নেপাল এই মহড়ায় অংশ নেবে না, তার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দেখায়নি সেদেশের সরকার৷ নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই খবর প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে৷ তবে এই ধরণের সিদ্ধান্তে নেপাল সরকারের ভাবমূর্তিরই ক্ষতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল এস বি আস্থানা জানান, সম্প্রতি ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে নেপাল সরকারের৷ ভারত ও নেপালের মধ্যে সাম্প্রতিক কালে শুরু হওয়া মনোমালিন্যের জেরেই নেপালের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে৷ আস্থানা জানান, চিনের সঙ্গে নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও এর পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে৷

গত ৩০ ও ৩১ অগাস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন। ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন৷

Advertisement ---
---
-----