নয়াদিল্লি: ক্রমশ আত্মহত্যার স্পট হিসাবে জায়গা করে নিচ্ছে দিল্লি মেট্রো৷ গত চারবছরে মেট্রোতে আত্মহত্যা করেছেন ৮৩জন৷ তথ্য অধিকার জানার আইনে এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷

এই ৮৩টির মধ্যে বেশিরভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ব্লু লাইনে৷ এটি দিল্লি মেট্রোর দীর্ঘতম ও ব্যস্ততম লাইন৷ ৪৪টি মেট্রো স্টেশন পড়ে ব্লু লাইনের আওতায়৷ স্টেশন শুরু দ্বারকা সেক্টর ২১ থেকে৷ শেষ নয়ডা সিটি সেন্টারে৷ এই ব্লু লাইনে চার বছরে ৩২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷

আরটিআই মারফত জানা গিয়েছে, সুভাষ নগর ও জনকপুরী ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশনে এখনও অবধি বেশি সংখ্যক আত্মহত্যার ঘটনার ঘটেছে৷ ২০১৪ সাল থেকে এই দুই স্টেশনে বছরে গড়ে চার জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন৷ তারপরেই উঠে এসেছে তিলক নগর, কাশ্মীরা গেট ও ছত্তরপুর মেট্রো স্টেশনের নাম৷

কোন বছরে কত মানুষ মেট্রোকে আত্মহত্যার মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে সেই তথ্য উঠে এসেছে৷ এই চারবছরে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০১৫ সালে৷ ওই বছর ২৪ জন মানুষ মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন৷ তারপরেই আছে ২০১৭ সাল৷ ওই বছর মেট্রোতে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৯টি৷ ২০১৬ সালে সেটি আরও কম ছিল৷ ওই বছর ১৫টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ আর চলতি বছরে অক্টোবর অবধি ১৬জন মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়েছে৷ ব্লু লাইন ছাড়া ইয়েলো লাইনে ২৪টি, রেড লাইনে ১৭টি, ভায়োলেট ও গ্রিন লাইনে তিনটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এই চার বছরে৷

আত্মহত্যা রুখতে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানো হয়েছে৷ সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে৷ এছাড়া মানসিক অবসাদে ভুগছেন এমন কাউকে চিহ্নিত করার বিশেষ প্রশিক্ষণও মেট্রোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দেওয়া হয়েছে৷ যার ফলে আত্মহত্যার সংখ্যা পুরোপুরি শূন্যতে নামানো না গেলেও অন্ততপক্ষে বেড়ে যায়নি৷ এটাই শুভ লক্ষণ৷

----
--