স্টাফ রিপোর্টার : ফের শিরোনামে বাদুড়িয়া৷ এবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে শিরোনামে চলে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার এই এলাকা৷ আর এবারও সেই একই ‘অভিযুক্ত’র নামেই পোস্ট হয়েছে৷ তবে এবারের পোস্টটি আগেরবারের মতো বিতর্কিত নয়৷ আর এই পোস্টকে কেন্দ্র করে কোনও গোলমালও হয়নি৷ তবে বাদুড়িয়ার ওই ঘটনার জেরে যে ছেলেটিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, এবার তার জবানিতে লেখা একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুকে৷ সেই পোস্টের মাধ্যমে ছেলেটি এই ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে৷ তার যে ভুল হয়েছিল সেকথা যেমন ওই পোস্টে ছেলেটি স্বীকার করেছে, তেমনই টেনে এনেছে হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে নানা বিতর্কিত ছবির প্রসঙ্গও৷ তার সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলেও প্রশ্ন তুলেছে৷ আসল অপরাধী দের পুলিশ গ্রেফতার করেনি বলেও সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, যে ছেলেটির নামে ওই পোস্ট ঘুরছে, সে এবং যে ওই ছেলেটির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিতর্কিত ছবিটি পোস্ট করেছিল, দু’জনেই এখন বিচারাধীন হেফাজতে রয়েছে৷ দু’জনেই নাবালক হওয়ায় জুভেনাইল আদালতে তাদের বিচার চলছে৷ ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ওই পোস্টটি কি আদৌ বাদুড়িয়ার ওই ছেলেটি লিখেছে, তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি৷ তবে ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‘আপনারা দুর্গাপুজোয় আনন্দ করছেন, পুজোতে আপনার সন্তানদের নতুন নতুন জামাকাপড় কিনে দিচ্ছেন৷ তাদেরকে নিয়ে আনন্দ করছেন৷ আর আমি পরিবার পরিচিত সবাইকে ছেড়ে সেইসব ভাবছি৷ ভাবুন তো কতটা কষ্ট হচ্ছে আমার?’’

Advertisement

মাস কয়েক আগে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যপক গোলমাল ছড়ায়৷ দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টা সংঘর্ষের জেরে পরিস্থতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ একাধিক বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেমে দীর্ঘসময় এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন৷ ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছিল৷ ওই পোস্টটি বাদুড়িয়ার একটি নাবালক পোস্ট করে বলে অভিযোগ ওঠে৷অভিযুক্তের বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷ ফেসবুক- হোয়াটস অ্যাপে ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে৷ ফেসবুকের ওই পোস্টের জন্য এবার ভুল স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, ‘‘মা কালীর কুরুচিকর ছবি পোস্ট করে, কই তাদের তো পুলিশ ধরে না? আমাকে ধরা হল কেন?’’

ওই পোস্টে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে৷ নাবালক হওয়া সত্ত্বেও তার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে ওই পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে৷ পুলিশের সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্যেও কটাক্ষ করা হয়েছে সেখানে৷ লেখা হয়েছে, বাক-স্বাধীনতার স্বপক্ষে যাঁরা মিছিলে হাঁটেন, তাঁরা এক্ষেত্রে কেন মুখ খুললেন না৷ প্রশ্ন করা হয়েছে, হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে অশ্লীল পোস্ট হলেও কাউকে কেন কোনদিন গ্রেফতার করা হয় না?

বিচারাধীন এক অভিযুক্তের করা পোস্টে ফের শোরগোল বাংলায়৷ যদিও এই পোস্ট কে করেছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ কিন্তু এই পোস্টকে ঘিরেই আপাতত: উত্তাল বাদুরিয়া বসিরহাট এলাকা৷ এখনও পর্য়ন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি৷ তবে, অভিযুক্তের হোক বা না হোক, তার নামে তোলা কিছু প্রশ্ন কিন্তু ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকেই৷

----
--