দক্ষিণ দিনাজপুরের পোশাকে অগ্নিমিত্রার হাত ধরে আধুনিকতার ছোঁয়া

শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: শুধু আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করাই নয়। চোর, ডাকাত, গুন্ডাদের শায়েস্তা করার পাশাপাশি মহিলাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষারও পথ দেখাচ্ছেন বাংলার এক আইপিএস। শিল্পবিহীন দক্ষিণ দিনাজপুরের মহিলাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিশ্বের দরবারে তাঁদের তৈরি সামগ্রীকে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশসুপার প্রসূন বন্দোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: বৃহস্পতির রাশিচক্রে কোনদিকে ঘুরছে আপনার ভাগ্যের চাকা?

জেলায় এমন বহু স্বনির্ভরগোষ্ঠী রয়েছে যেখানে এলাকার মহিলারা বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করেন৷ কিন্তু সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে সেগুলি সেভাবে বাজার পায়নি। সেই সমস্ত বিশেষ করে সেলাইয়ের কাজে যুক্ত গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তিনি৷

এ ব্যাপারে পুলিশসুপার পাশে পেয়েছেন প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালকে৷ মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে প্রান্তিক এই জেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁকে৷ খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনারের হাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে মহিলাদের শুধু আধুনিক ও উন্নতমানের পোশাক তৈরির কাজই নয়, বিশ্বদরবারে তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই পুলিশ অফিসার৷

আরও পড়ুন: ভারতের আকাশে এবার উড়বে এয়ার ট্যাক্সি

এই প্রচেষ্টায় সামিল হয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ ও জেলাশাসকও। পুলিশসুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসহায় মহিলাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সকলেই। জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে টিম তৈরি করে দেওয়া হবে এই প্রশিক্ষণ।

তাঁদের হাতে তৈরি জামাকাপড় ও সামগ্রী বিশ্বের বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি দৈনিক রোজগারও সুনিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুরঘাটের কামারপাড়ায় এই প্রকল্পের পথ চলা শুরু হল৷ কামারপাড়া ল্যাম্পস ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশসুপার প্রসূন বন্দোপাধ্যায়, জেলা সমবায় আধিকারিক শৌণক বন্দোপাধ্যায় ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ‘ডাফলিওয়ালে’র সঙ্গে নাচ! পদ থেকে সরতে হল তৃণমূলের এই নেত্রীকে

ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, পুলিশসুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ পেয়েই তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরে টিম তৈরি করে মহিলাদের উন্নতমানের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করতে চলেছেন। গোষ্ঠীর এই মহিলারা হয়তো আগে থেকেই কাপড় সেলাই বা জামাকাপড় তৈরির কাজ জানেন। কিন্তু আরও কী কী করলে তাঁদের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়বে সে সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই৷

দশজন মহিলাকে নিয়ে এক-একটি টিম করে তাঁদের হাতে কলমে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাতে একদিকে যেমন মহিলারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবেন। পাশাপাশি তাঁদের তৈরি পোশাকগুলির মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের বাজারে দক্ষিণ দিনাজপুরের নামও ছড়িয়ে পড়বে। শুধু পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণই নয়। বাড়িতে মাত্র এক বর্গ মিটার জমিতে কীভাবে সবজি চাষ ও তার উপর বাঁশের মাচা করে মাশরুম চাষ সম্ভব সে ব্যাপারেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই মহিলাদের৷

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির পদের নিরাপত্তা পেলে তবেই পাকিস্তানে ফিরবেন মুশারফ

পুলিশসুপার প্রসূন বন্দোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমার মনে হয় মহিলাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিতের পাশাপাশি তাঁদের রোজগারের পথ দেখানোটাও জরুরি। হস্তশিল্পে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষিণ দিনাজপুরের নামকে পৌঁছে দেওয়াটাই লক্ষ্য৷’’ তাই তিনি খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। অগ্নিমিত্রার হাত ধরেই জেলার অসহায় মহিলারা এবার স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হবেন৷

সাংসদ অর্পিতা ঘোষ বলেন, পুলিশসুপারের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। জেলার মহিলারা রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় স্বনির্ভর হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের তৈরি জিনিসগুলিতে আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকায় সেভাবে বাজার ধরতে পারছেন না৷ অগ্নিমিত্রা পালের প্রচেষ্টায় এবার দক্ষিণ দিনাজপুরের মহিলাদের তৈরি পোশাক ফ্যাশন জগতে সুনাম অর্জন করতে পারবে৷

Advertisement
----
-----