কলকাতা : উত্তর কলকাতার বোনেদি বাড়ি৷ সাবেকি আসবাবে সাজানো বড় হল ঘর৷ তার মাঝখানে রাখা একটা গ্র্যামাফোন৷ হঠাৎই ছুঁটে এল দুটো মিষ্টি ছেলে মেয়ে৷ মেয়েটির পরণে সাদা শাড়ি আর ছেলেটি কৃষ্ণের বেশে৷ খেলায় মেতেছে তারা৷ গ্র্যামাফোনের সামনে আসতেই থেমে গেল তারা৷ মিটি মিটি একে অপরের দিকে তাকিয়ে চালিয়ে দিল গ্র্যামাফোনটা৷ সংস্কৃত স্লোক দিয়ে শুরু হল একটা গান৷ ব্যস! শুরু হল গল্প৷

একঘেয়ে লাভ স্টোরির ট্র্যাক ছেড়ে ভিন্নস্বাদের গল্প৷ কয়েক মিনিটের পূর্বরাগ, প্রেম, বিরহ, মিলনে ভালোবাসার সব পর্যায় ক্যামেরা বন্দি করলেন অভিরূপ বসু৷ মিউজিক্যাল শর্ট ফিল্ম ‘সাঁইয়া’ এ ফুটে উঠল প্রেমের অন্য কাহিনী৷

আরও পড়ুন: কী কী স্পেশ্যাল থাকছে ‘রাজশ্রী’ বিয়েতে

একুশ শতকের হিংসা, ঘৃণার মাঝে দাড়িয়েও দুটো মানুষকে ছুঁয়ে গেছে ভালোবাসার সোনার কাঠি৷ সারাজীবন আলাদা থেকে বয়সকালে এসে দেখা হল৷ তাও সেই ছোটবেলার প্রেমেটা এখনও স্বতেজ, নতুন৷ গানে গানে পরিচালক অভিরূপ তুলে ধরলেন যুগ যুগ ধরে শুনে আসা রাধা-কৃষ্ণের সনাতন প্রেমের গল্প৷

ছেলেবেলা কাটিয়ে বার্ধক্য চলে এলো কিন্তু তাঁদের প্রেম যেন আকাশের শুকতারার মতো এখনও জ্বলজ্বল করছে৷ শর্ট ফিল্মটিতে তিনটি ধাপ রয়েছে৷ শৈশব, যৌবন এবং বার্ধক্য৷ তবে তিনটি ধাপের মধ্যে কমোন ফ্যাক্টর ভালোবাসা৷ শৈশবের দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছে অঙ্কন মল্লিক এবং শাম্বভি মুখোপাধ্যায়৷ পরের ধাপটিতে অভিনয় করেছেন গৌরব চক্রবর্তী ও অনিন্দিতা বোস৷ লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট৷ ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং লিলি চক্রবর্তী৷

আরও পড়ুন: উজবেকিস্তানে শুরু দেবের ‘হইচই’

পরিচালকের কথায়, “অনির্বাণ দাসের লেখা একটা গান শুনেছিলাম৷ ওর কাছে একটা মিউজিক ভিডিওয়র আইডিয়া ছিল৷ তবে আমি চাইছিলাম মিউজিক্যাল ভিডিও বানাতে। রাধা-কৃষ্ণের যেমন বিরহ প্রেমের গল্প, তেমনই সারাটা জীবন তাদের দেখা হয়নি৷ বয়স হয়ে যাওয়ার পর দেখা হল তাদের। এরম একটা ভালোবাসার কাহিনী নিয়ে এক্সপ্লোর করেছি ফিল্ম টাতে৷’’

গল্প ছাডা়ও মূল আকর্ষণ ছিল সুথিং ট্র্যাক৷ সেই ‘সাঁইয়া’ গানটি গেয়েছেন মধুপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায় এবং নির্মাল্য রায়৷

----
--