পরের বছর সিবিএসসি পরীক্ষার আমুল পরিবর্তন: অনিল স্বরূপ

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পরের বছরে সিবিএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিবর্তন আনা হবে৷ সোমবার কলকাতায় এসে মার্চেন্ট চেম্বার্স অফ কমার্স আয়োজিত ‘‘ক্রিয়েটিং রোবাস্ট, জাস্ট, রিলায়েবেল এন্ড স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি পাবলিক এগজামিনেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া’-র উপর একটি আলোচনা সভায় এমনই জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব অনিল স্বরূপ৷

তিনি বলেন, ‘‘আগামী বছরের সিবিএসই পরীক্ষা ব্যবস্থা বর্তমান ব্যবস্থার থেকে পুরোপুরি আলাদা হবে৷ তা সম্ভব হবে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে৷’’ তবে তা ঠিক কী ভাবে পরিবর্তন হবে সেই সম্পর্কে এ দিন কিছু বলেননি শিক্ষা সচিব৷ তিনি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি এখন আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে৷ তবে উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘‘হয়তো যে সব স্কুলে প্রিন্টার রয়েছে সেখানে একটি কোড পাঠিয়ে দেওয়া হল৷ স্কুলগুলি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সেই কোডটি খুলবেন৷ তারপর, সেখানে থাকা প্রশ্নপত্র প্রিন্ট আউট করে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের দেবে৷’’ যদিও এটি শুধুমাত্র একটি উদাহরণ৷ আসল ব্যবস্থা আরও বেশি কঠোর ও তথ্য-প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নতমানের হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

সিবিএসই-র দুটি প্রশ্নপত্রের সেট তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই ব্যবস্থায় যে বিষয়গুলি একাধিক ধারায় রয়েছে সেগুলির ক্ষেত্রে দুটি প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করা হবে৷ উদাহরণ স্বরূপ, যারা কমার্সের পড়ুয়া তারা অংক নিতে পারবেন এবং একই সুবিধা থাকবে বিজ্ঞান শাখার পড়ুয়াদের জন্যও৷ কিন্তু, কমার্স শাখার পড়ুয়াদের কার্যকরী অংক বেশি দরকারি৷ যেমন, বিজ্ঞান শাখার পড়ুয়াদের জন্য বিস্তারিত অংক প্রয়োজন৷ তাই দুটি প্রশ্নপত্র তৈরির একটি ধারণা আনা হয়েছে৷ যেখানে, সহজ প্রশ্নপত্র থাকবে কমার্স শাখার জন্য ও অন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে বিজ্ঞান শাখার জন্য৷’’

- Advertisement -

এ দিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিড়লা হাই স্কুলের ডাইরেক্টর মুক্তা নয়েন৷ পরীক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন দরকার৷ সেই সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি সিবিএসই প্রশ্নফাঁসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷ তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের সঙ্গে কী কোনও সিবিএসই কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন? নাকি, যারা প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে ছিলেন, তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত? প্রশ্নগুলি সামনে আসতেই কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেন শিক্ষা সচিব৷ তিনি মুক্তা নয়েনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আপনি যখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন তখন আপনার তথ্য সঠিক থাকা উচিত৷ আপনার দায়িত্ব আপনি যা পড়েছেন তা সবার সামনে না উল্লেখ করে তথ্যকে যাচাই করে নেওয়া৷’’

তিনি এবিষয়ে বলেন, ‘‘পুলিশী তদন্তে স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে যে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কোনও সিবিএসই কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন না৷ তাই এটা বলা ভুল যে, সিবিএসসির কেউ এই ঘটনার জন্য দায়ী৷ এই বিষয়ে সেক্রেটারি অফ হায়ার এডুকেশনের অধীনে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷ আগামী ৬ জুন সেই রিপোর্ট আমার কাছে জমা পড়বে৷’’ তিনি তথ্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন না করার জন্য আলোচনা সভায় সকলকে অনুরোধ করেন৷

এ দিনের আলোচনা সভায় দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার খামতি ও সেই খামতিগুলি দূর করতে কী করা উচিত সেই সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ মিশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য স্বামী মুক্তিদানন্দ, বিড়লা হাই স্কুলের ডাইরেক্টর মুক্তা নয়েন ও হেরিটেজ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সীমা সাপ্রু৷ তারা প্রত্যেকেই একাধিক পরামর্শ দেন এদিন৷ সব শোনার পর অনিল স্বরূপ বলেন, ‘‘আমরা কী করা উচিত তা নিয়ে বলতে পারি৷ আমরা বলতে পারি, এটা করা উচিত, ওটা করা উচিত৷ কিন্তু, আমি জানতে চাইব এটা হচ্ছে না তাহলে কেন হচ্ছে না৷’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিশ্বের কোথাও নিখুঁত শিক্ষা ব্যবস্থা নেই৷’’

পর্রামশগুলি শোনার পর তিনি বলেন, ‘‘আমি চেম্বারকে পরামর্শ দিচ্ছি যে, আপনারা একটি বোর্ড স্থাপন করুন৷ আর সেই বোর্ডে আপনারা সেই পরামর্শগুলি প্রয়োগ করুন যেগুলি আপনারা সিবিএসই বোর্ডের জন্য দিচ্ছেন৷ বর্তমান আইন অনুযায়ী আপনাদের বোর্ড স্থাপনের ক্ষমতা রয়েছে৷ তখন আপনারা বুঝতে পারবেন জ্ঞান দেওয়া কতটা সোজা৷ আর তার বাস্তবায়ণ করা কতটা সহজ৷’’

এ দিন শিক্ষা সচিব অনিল স্বরূপ ‘নো ডিটেনশন’ নীতি নিয়েও বলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘নো ডিটেনশনের মানে এই নয় যে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না৷ এর মানে কোনও পড়ুয়াকে আটকানো যাবে না৷ কিন্তু, তার মূল্যায়ণের জন্য পরীক্ষা নেওয়া উচিত৷ বর্তমানে পরীক্ষা একটি প্রতিযোগীতা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমি এটার পুরোপুরি বিরুদ্ধে৷ তবে নো-ডিটেনশন তুলে দেওয়া হচ্ছে তার মানে এই নয় যে, কোনও পড়ুয়াকে স্কুল থেকে বের করে দিতে পারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷’’

Advertisement
-----