বেঙ্গালুরু: মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি সে৷ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির অন্যতম নেতা বোমা মিজান ওরফে কওসর ওরফে জাহিদুল ইসলামকে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করেছিল এনআইএ৷ তারই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে কওসরের ডান হাত আদিল বা আসাদুল্লাহকে৷
কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর রামনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সোমবারই সন্ধ্যে নাগাদ এনআইএ-র একটি দল বেঙ্গালুরু থেকে ৩৮ বছরের কওসরকে পাকরাও করে৷ তার সাথেই ধরা পড়ে ২৯ বছরের আদিল৷ মুর্শিদাবাদের এলিসাবাদ এলাকার বাসিন্দা আদিল বেঙ্গালুরুর ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের অটোস্ট্যান্ড থেকে ধরা পড়ে৷
তাকেও এনআইএ-র বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়৷ পরে ট্রানজিট রিমান্ডে বিহারের পাটনার এনআইএ-র স্পেশাল কোর্টে তোলা হয়৷ ধৃতদের থেকে আইডির সার্কিট ডিজাইন সহ আরও বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়৷ এই দুই জঙ্গি বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানিয়েছে এনআইএ৷
বেঙ্গালুরুর রামনগরে কওসরের ভাড়া নেওয়া ঘর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে এনআইএ৷ বাংলাদেশে একাধিক বিস্ফোরণ সঙ্গে নাম জড়িয়ে রয়েছে এই কওসর ও আদিলের৷
২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকে কওসর৷ সঙ্গী করে আদিলকে৷ পুলিশ ও এনআইএ-র চোখে ধুলো দিয়ে ঘাঁটি গাড়ে বেঙ্গালুরুতে৷ সেখানে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে৷ রামনগরে ভাড়া নিয়ে থাকত কওসর৷ বিভিন্ন জায়গায় কাপড় বিক্রি করে বেড়াত সে৷
এর আগে গত ৩ অগস্ট বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত আবদুল করিম এবং মুস্তাফিজুর রহমানকে কেরলের মলপ্পুরম থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে একটি বিবৃতিতে জানায় এনআইএ৷ সোমবার পাটনা আদালতে তোলা হয় তাদের৷
প্রসঙ্গত, বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয় ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর৷ প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ কোনও দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়৷ পরে উঠে আসে জেএমবি পরিচালিত বিশাল জঙ্গি চক্রের কথা৷ ২০১৪-র এই ঘটনায় এনআইএ-র ফাইল করা চার্জশিটে অভিযুক্ত কওসরকে ‘২৪ নম্বর’ এবং ‘জেএমবি-র শীর্ষ নেতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল৷

----
--