নয়াদিল্লি: এই প্রথমবার ‘ওয়ান্টেড’ লিস্টে এক পাকিস্তানি কূটনীতিকের নাম তুলল এনআইএ। আমির জুবের সিদ্দিকি নামে ওই ব্যক্তির নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। কলম্বোতে ভিসা কাউন্সেলর হিসেবে ছিলেন তিনি।

এনআইএ সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তি আমেরিকায় ২৬/১১-র মত হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি ভারতের সেনা ও নৌসেনার উপরও হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৪ তে সেই হামলার ছক কষা হয়েছিল। এই ঘটনায় যুক্ত ছিল আরও দুই পাকিস্তানি অফিসার। এছাড়া শ্রীলঙ্কার পাক দূতাবাসে থাকা এক পাকিস্তানি অফিসারের নামও রয়েছে এই সন্দেহের তালিকায়।

পাকিস্তানি অফিসারদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করতে চলেছে এনআইএ। ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্দিকির বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে এই গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু অন্যান্য তিন অফিসারকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ওয়ান্টেড লিস্টে থাকা দুই পাকিস্তানি অফিসারের কোড নেম ‘বিনীত’ ও ‘বস ওরফে শাহ’।

জানা গিয়েছে, ওই তিন পাক অফিসার ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কলম্বোয় কর্মরত ছিলেন। সেইসময় চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এই কাজের জন্য সিদ্দিকি শ্রীলঙ্কার নাগরিক মহম্মদ সাকির হুসেন, সেলভারাজ, সিভাবালান, থামিন আনসারির মত কয়েকজনকে ভাড়া করেছিলেন। যাদের প্রত্যেককেই আগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এইসব ব্যক্তিদের ভারতের সেনা ঘাঁটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন পাক অফিসারেরা। বিভিন্ন ঘাঁটির ছবি তুলে পাঠাতে বলা হয়। এমনকি সেনা অফিসারদের ল্যাটপ চুরির নির্দেশও দেওয়া হয় তাদের। চেন্নাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার ছক ছিল। এছাড়া টার্গেট ছিল বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নাভাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার ও বিভিন্ন বন্দর।

আমেরিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই পাক অফিসারদের বিষয়ে জানতে পারে এনআইএ। মার্কিন কনস্যুলেটের কোড নেম হিসেবে তারা ব্যবহার করছিল wedding hall. আর যেসব জঙ্গিদের মালদ্বীপ হয়ে ভারতে ঢুকে হামলা চালানোর কথা ছিল তাদের কোড নেম ছিল cooks. বোমার কোড নেম ছিল Spice. দুই আত্মঘাতী জঙ্গির সঙ্গে ব্যাংককে দেখাও করেছিলেন সিদ্দিকি।

----
--