প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: এবার নিপা ভাইরাসের আতঙ্কের প্রভাব পড়ল মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। আতঙ্কের জেরে মালদহের মহুদিপুরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্দরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে আম রফতানি৷ প্রায় তিনশো কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির সম্ভবনা বলে জানা গিয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রফতানি কারবারীরা।

একই ভাবে প্রভাব পড়েছে মালদহের স্থানীয় বাজারে। মরশুমের শুরুতেই এই নিপা ভাইরাসের আতঙ্কের জেরে মাথায় হাত পড়েছে আম চাষি থেকে ফল ব্যবসায়ীদের। ফলে মরশুমের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কার সম্মুখে ফল ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এই নিপা ভাইরাসের আতঙ্কের জেরে ক্রেতা শূন্য বাজার যাচ্ছে।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কর্মাসের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু বলেছেন, ‘‘প্রায় ৬০ শতাংশ ফল বিক্রি কমে গিয়েছে। এই মুহুর্তে ব্যবসার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর দিকে এগোচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকেই ক্ষতির মধ্যে দিয়ে এগোতে হবে৷ পাশাপাশি, রফতানি কারক সমীর ঘোষ বলেন, এই পরিস্থিতে প্রায় তিনশো কোটি টাকা মত ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ততদিন ক্ষতির মুখে থাকতে হবে রফতানিকারকদের।

নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক নিয়ে নেতাজি বাজারে বাজার করতে আশা এক ক্রেতা জানান, আতঙ্কের জেরে প্রায় ফল কেনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বাড়ির বাচ্চাদের মন ভোলাতে ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টির ফল বা চকলেট নিয়ে যেতে হয়৷ এই বছর মালদহ জেলায় প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। জেলার সিংহভাগ আমই বাংলাদেশের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকায় চলে যায়। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে মরশুমের শুরুতে কেবল বিদেশের বাজার নয় দেশীয় বাজারেও চরম সঙ্কটের মুখে অর্থকারী এই ফসল। যার প্রভাব পরেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও।

প্রসঙ্গত, ডাক্তারদের মতে এই ভাইরাস নতুন নয়। এটি ভারতে তৃতীয় নম্বর ঘটনা। ২০০১ সালে প্রথমে শিলিগুড়ি ও পড়ে নদিয়া জেলায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশে বহু মানুষের মৃত্যুও হয়েছিল। তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে এটি সবার মুখে মুখে। এতে একদিকে সুবিধা হয়েছে। মানুষ রোগ সম্পর্কে জানতে পারছে, অবগত থাকছে৷

এ দিকে, ফল ভালো করে ধুইয়ে খাওয়ার জন্য ত্রিপুরা সরকার সতর্ক বার্তা আগেই জানিয়েছে। মাটিতে পড়ে থাকা কোনও প্রাণীর কামড়ানো ফল এড়িয়ে চলার জন্যেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব ফল খাওয়া তো দুরস্ত, ঘরে জমিয়ে রাখাটাও নিরাপদ নয় বলে দাবি চিকিৎসক মহলের।

খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস করে নেওয়াটা সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এই বিষয়টি জানা থাকলেও অনেকেই সেই কাজ করে না৷ ফলে যে কোনও ধরনের ভাইরাস অতি সহজে আক্রমণ করতে পারে৷

তবে এই নিপার সংক্রমণে আনারস রফতানিতে যাতে করে কোনও রকমের প্রভাব না পড়ে রাজ্য সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে কৃষি দফতর থেকে বলা হয়েছে। ত্রিপুরার আনারস বিশ্ব প্রসিদ্ধ। কলা, পেঁপে ও আম চাষে ভারত হল সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশ। সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত আবশ্যক৷ যদিও কোনও কোনও চিকিৎসক আবার বলছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তদের শ্বাসকষ্ট বা মাথা ব্যথা সংক্রমণের শিকার হতে হয়। এই রোগের শিকার হলে আক্রান্তের মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে যায়।

----
--