মুজজফরপুরের ধর্ষণের ঘটনা রাজ্যের মাথা হেঁট করে দিয়েছে: নীতীশ

ফাইল ছবি

পাটনা: মুজজফরপুরের ধর্ষণের ঘটনায় ট্যুইট করে ‘নীতীশ চাচার’ মুখ খুলতে বাধ্য করবেন বলে জানিয়েছিলন তেজস্বী যাদব৷ বেশিক্ষণ আর অপেক্ষা করতে হয়নি৷ তেজস্বীর ট্যুইটের কয়েকঘণ্টা পরই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ জানালেন, এই ঘটনা রাজ্যের পক্ষে লজ্জাজনক৷ মুজজফরপুরে যা হয়েছে তাতে বদনাম কুড়িয়েছে বিহার৷ একই সঙ্গে এই ঘটনায় হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

গত ৩১ মে মুজজফপুরের ধর্ষণের ঘটনার এফআইআর দায়ের হয়৷ বিরোধীরা এই ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হলেও কোনও মন্তব্য করেননি নীতীশ৷ এমন একটি বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীরবতা পালন করায় বিরোধীরা আরও তেতে ওঠে৷ বিশেষ করে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব৷ শুক্রবার অবশেষে মুখ খুললেন নীতীশ কুমার৷ রাজধানী পাটনায় একটি অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, ‘‘ওখানে যা হয়েছে তাতে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে৷ সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে৷ কিন্তু আমরা চাই হাইকোর্টের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত করুক৷’’

সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, কাউকে রেয়াত করা হবে না৷ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না৷ যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে৷ তবে এই ঘটনায় রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ বিহারের মন্ত্রী মঞ্জু ভার্মার স্বামীকে ঘন ঘন ওই হোমে যেতে দেখা যেত৷ বিভিন্ন রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে৷

এ দিন সকালে এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে তেজস্বী একটি ট্যুইট করেন৷ লেখেন, ৩৪ জন মেয়ের উপর দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে৷ আপনার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এতে জড়িত৷ তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাতে ঘুমাতে পারেন কী করে? এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার বামেরা বিহার বনধের ডাক দিয়েছিল৷ আরজেডি, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলি সেই বনধকে সমর্থন করে৷ তার ঠিক একদিন আগে রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক কেন্দ্র ও বিহার সরকারকে একটি চিঠি লেখেন৷ চিঠির সারমর্ম এই হোমগুলিতে অসাধু কাজ আটকাতে কঠোর আইন আনতে হবে৷

বিহারের মুজজফরপুরের দুটি হোম থেকে ৩৪ জন নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে৷ এই হোমগুলি থেকে ১১ জন নাবালিকা নিখোঁজ বলে খবর৷ হোম দুটি মালিক ব্রিজেশ ঠাকুর৷ সিবিআই এই ঘটনার তদন্তের ভার হাতে নেওয়ার পর সামনে আসে আরও ভয়ঙ্কর কাহিনী৷ জানা যায়, হোমের কর্মীরা নাবালিকাদের উপর মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করত৷

----
-----