সিবিআই নয়! গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে সিআইডি, নির্দেশ আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাণীগঞ্জের গৃহবধূ হত্যার ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের থেকে নিয়ে ফের সিআইডিকে দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতিরর্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ৷

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর রাণীগঞ্জের বাসিন্দা বছর ৩৫সের গৃহবধূ পুষ্পা ভালোটিয়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান৷ ঘটনার পরেই পুষ্পা দেবীর স্বামী মনোজ ভালোটিয়া প্রথমে দমকল এবং পরে পুলিশে খবর দেন। মৃতার পরিবারের তরফে রাণীগঞ্জ থানায় পুষ্পা ভালোটিয়ার শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ তদন্তের স্বার্থে থানায় ডেকে পাঠানো হয় মৃতার শ্বশুড়বাড়ির লোকেদের৷

পুষ্পাদেবীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে দমকল, পুলিশ ও অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যে কোনও বিস্তর অসঙ্গতি মেলে৷ কারণ, পুষ্পা দেবীর শরীরে বুলেটের আঘাত ছিল৷ ফলে রাণীগঞ্জ পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডি’কে৷

- Advertisement -

তবে, বোনের মৃত্যুর তদন্ত সিআইডি ঠিক মত করছে না বলে অভিযোগ করেন মৃত পুষ্পা ভালোটিয়ার দাদা৷ তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০১৭ সালের ২১ শে ডিসেম্বর সিআইডিকে চিঠি দিয়েছিলেন পুষ্পাদেবীর স্বামী মনোজ ভালোটিয়া৷ চিঠিতে মনোজ জানান, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তদন্তের সিআইডি গোয়েন্দাদের সব রকম সহযোগিতা করবে সে৷

এরপরই আদালতে সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মৃতার দাদার আইনজীবী৷ শুনানিতে সিআইডি মিথ্যা বলছেন বলে অভিযোগ করা হয়৷ তাঁদের যুক্তি ছিল, ২৫শে জুলাই ২০১৮তে হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন সিআইডি জানিয়েছিল অভিযুক্ত মনোজ ভালোটিয়া ফেরার৷ তাঁর মোবাইল ট্র্যাক করে খোঁজ চালানো হচ্ছে৷ এরপর চিঠিতে মনোজ বাড়ির ঠিকানা জানালেও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল না?

গত ২১শে অগাষ্ট আদালতেই বিচারপতি রাজশেখর মন্থা সিাইডির আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করে পুষ্পা ভালোটিয়া মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডির থেকে নিয়ে সিবিআইকে করার নির্দেশ দেন৷ পাশাপাশি সিবিআইয়ের ডিরেক্টরকে একটি বিশেষ দল গঠন করে ঘটনার তদন্তে করার নির্দেশও দেন৷ জানান তদন্তের রিপোর্ট দিতে হবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে৷

আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতিরর্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে রাজ্য সরকার। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি৷
আদালতে রাজ্যের অ্যাভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, ‘‘সিআইডির তদন্তের কোন গাফিলতি নেই। তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছিল। ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য সিআইডির হাতে নথি তুলে দিয়েছিল আসানসোল-রানীগঞ্জ পুলিশ কমিশনারেট। অ্যাডভোকেট জেনারেল বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে মৃতার দাদার আইনজীবী বলেন, ‘‘সিআইডির তদন্তে গাফিলতি রয়েছে৷ ময়না তদন্তের রিপোর্টে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেলেও কেন অভিযুক্তকে হাতের নাগালে পেয়েও গ্রেফতার করা হল না?’’

এরপরই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতিরর্ময় ভট্টাচার্য্য ও বিচারপতি অরিজৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় খারিজ করে ফের সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী দু’মাসের মধ্যে এই তদন্তের রিপোর্ট সিআইডিকে আদালতে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্ত মনোজ ভালোটিয়াকেও জেরা করার নির্দেশ দেয় আদালত৷

Advertisement ---
---
-----