স্থায়ীকরণের দাবি করা যাবে না, শর্ত মানলে মিলবে পুলিশে চাকরি

সুজয় পাল: শূন্যপদ দু’শোর বেশি৷ তবে চাকরি পেতে হলে যোগ্যতার পাশাপাশি মানতে হবে পরবর্তীতে স্থায়ীকরণের দাবি না তোলার শর্ত৷ সেই শর্তেই এবার শহরে সিভিক ভলিন্টিয়ার নিয়োগ করতে চলেছে লালবাজার৷ সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে মোট ২১০ জন সিভিক ভলিন্টিয়ার নিয়োগ করা হবে৷ সেই মর্মে আবেদনপত্রও আপলোড করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে৷ সেই বিজ্ঞাপনেই (EMPLOYMENT NOTICE NO. FRC/Recruit/ 03 /2017) সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থায়ী এই পদগুলিতে নিয়োগ হবে পুরনো সরকারি নিয়ম মেনেই হবে৷ অর্থাৎ পরবর্তীতে স্থায়ীকরণের কোনও দাবি করলে তা কোনওভাবেই মানা হবে না৷

  • হঠাৎ এভাবে বিজ্ঞাপন কেন?

তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রায় ৩০ হাজার সিভিক পুলিশ নিয়োগ করে৷ কিন্তু সেই নিয়োগে কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে৷ সিঙ্গল বেঞ্চ সিভিক পুলিশকর্মীদের বরখাস্ত করার নির্দেশও দেয়৷ তাতেই শুরু হয় আন্দোলন-বিক্ষোভ৷ রাজ্যের প্রায় সব থানায় কাজ করা এই সিভিক পুলিশরা কাজ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার বিপাকে পড়ে সরকার৷ পাকা চাকরির দাবিতে সিভিক পুলিশ ভলিন্টিয়ারদের এমন বিক্ষোভ-আন্দোলনে নাজেহাল হতে হয়েছিল সরকারকে৷ পুলিশের মতো শৃঙ্খলা পরায়ন বাহিনীতে এমন আন্দোলন-বিক্ষোভ কার্যত নজিরবিহীন৷ পরবর্তীতে অবশ্য কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশে চাকরি বহাল থাকে তাদের৷ কিন্তু তাঁরা যাতে নিজেদের পুলিশ বলে দাবি করতে না পারে সেজন্য সিভিক পুলিশের বদলে সিভিক ভলিন্টিয়ার নামকরণ করা হয়৷

কলকাতা পুলিশের একাংশও মনে করছে, পরবর্তীতে এই সিভিক ভলিন্টিয়াররা যাতে স্থায়ীকরণের দাবিতে কোনও আন্দোলন-বিক্ষোভের পথে না হাটতে পারে কিংবা স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারে সে জন্যই আগে থেকেই শর্ত দিয়ে রাখা হল৷ এক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশ সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই আগে থেকে শর্ত দিয়েই সিভিক ভলিন্টিয়ার নিয়োগ করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এবিষয়ে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (৪) হরি কিশোর কুসুমকারকে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷

- Advertisement -

সিভিক ভলিন্টিয়ার নিয়োগ সংক্রান্ত এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে আসন্ন উৎসবের মরসুমের জন্য ট্রাফিক বিভাগে এবং সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের জন্য মোট ২১০ জন সিভিক পুলিশ নিয়োগ করা হবে৷ সাউথ-ইস্ট ডিভিসনের জন্য ১০০ জন এবং ট্রাফিকের জন্য ১১০ জনকে নিয়োগ করা হবে৷ এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ অনেকে প্রশ্ন তুলছে আদৌ এভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় কিনা৷ আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার মতে, ‘‘এভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া বিতর্কের সৃষ্টি করলেও, বিশেষ আইনে শর্তাধিন নিয়োগ করার ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশ একেবারে নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করেনি৷’’

Advertisement
---