কোচবিহার: মুখ্যমন্ত্রী নিজে জেলায় এসে কোচবিহারকে নির্মল জেলার তকমা দিয়ে গিয়েছিলেন৷ গত বছর এপ্রিলের ঘটনা৷ সবে বছর ঘুরেছে৷ কিন্তু এ জেলা প্রকৃত অর্থেই কী নির্মল! সে প্রশ্ন উষ্কে দিল কোচবিহার শহর লাগোয়া গুড়িয়াহাটি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীঘাট এলাকা৷

গত বছর এপ্রিল মাসে কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী এসে চকচকা শিল্পাঞ্চলের সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কোচবিহারকে নির্মল জেলা হিসেবে ঘোষনা করেছিলেন। কিন্তু কতটা নির্মল হয়েছে এই জেলা? কোচবিহার শহর লাগোয়া গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীঘাট এলাকায় এখনও বেশ কিছু বাড়িতে শৌচাগার তৈরি হয়নি৷

Advertisement

এইরকমই এক বাসিন্দা আরতি সরকার৷ দু’বছর আগে সরকারি শৌচালয়ের জন্য ৯০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। তারপর ঠিকাদারি সংস্থা তাঁর বাড়িতে কিছু ইট, সিমেন্ট ফেলে৷ একটি ট্যাঙ্কও তৈরি করে৷ ব্যস ওই অবধিই৷ এরপর আর কিছু না করেই উধাও ওই ঠিকাদার৷

আরও পড়ুন: ওঝাতেই ভরসা! আবারও সাপে কাটা ব্যক্তির মৃত্যু

এরপর দু’বছর ধরে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়৷ কিন্তু শৌচাগার তৈরি হয়নি তাঁদের। শুধু কালীঘাটের আরতি সরকারই নন, টাকা জমা দেওয়ার পর শৌচাগার তৈরি হয়নি অনেকেরই। কেউ কেউ আবার শৌচাগার না পেয়ে টাকা ফেরত নিয়ে এসেছেন।

আরতি সরকার বলেন, ‘‘দু’বছরের বেশি সময় আগে সরকারি শৌচালয়ের জন্য ৯০০ টাকা জমা দিয়েছিলাম৷ বাড়িতে ইট, সিমেন্ট, বালি ও একটি ট্যাঙ্ক বানিয়ে রেখে ঠিকাদারদের লোকজন চলে গিয়েছে৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত শৌচালয় তৈরি হয়নি৷’’

অন্য বাড়ির শৌচালয়ই ভরসা তাঁদের৷ একই অভিযোগ এই এলাকার নিতাই সরকারেরও৷ তিনিও শৌচালয়ের জন্য ৯০০ টাকা দিয়েছিলেন৷ কিন্তু দু’বছরে কোনও কাজ না হওয়ায় অঞ্চল অফিস থেকে টাকা ফেরত নিয়ে এসেছেন৷ অন্যদিকে এমন অভিযোগও উঠেছে, যেসব বাড়িতে শৌচাগার তৈরি হয়নি সেখানে চাহিদামতো ঠিকাদার কাজ করছিল না৷ তাই অনেক উপভোক্তাই কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন৷ তাই বাকি রয়ে গিয়েছে কাজও৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালে উপচে পড়ল ফুড প্লাজা

 

----
--