স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যথাযথ নয় বদলির নীতি৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ বদলির নীতিই নেই৷ এমনই অভিযোগ উঠল এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে৷ সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার এবং প্রহসনের অভিযোগও ফের উঠল৷ এবং, বদলি সংক্রান্ত এক নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর মৃত্যুর জেরে এমনই অভিযোগ করলেন এ বার খোদ সরকারি ডাক্তাররাই৷

৩০ নভেম্বর ৬৭ জন কর্মীর বদলির জন্য এক নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য দফতর৷ ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই এ দিন সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল সিপিএম সমর্থিত কর্মীদের সংগঠনের সদস্যরা৷ আন্দোলনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই হাওড়ার বাসিন্দা স্বাস্থ্য দফতরের ৫০ বছর বয়সি এই কর্মীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা গিয়েছে৷ এই ঘটনায় কর্মীদের বিভিন্ন অংশে এ দিন ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়৷ শেষ পর্যন্ত, স্বাস্থ্য সচিবের ঘরের সামনে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সামাল দিতে স্বাস্থ্য ভবনকে এ দিন পুলিশের সহায়তা নিতে হয়৷

বদলির ওই তালিকায় কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছিল না৷ তবে, এ দিনের এই মৃত্যুর ঘটনার জেরে স্বাস্থ্য দফতরের বদলি সংক্রান্ত নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ সরকারি ডাক্তাররাই৷ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ডাক্তারদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার সজল বিশ্বাসের কথায়, ‘‘অবসরের সময় হয়ে এলে কোনও কর্মীকে আর বদলি করা যায় না৷ যে ৬৭ জনের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে, সেখানে অনেকের অবসরের সময় চলে এসেছে৷ এটা সরকারের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ৷ স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশ প্রহসন৷ এটা স্বাস্থ্য দফতরের সুস্বাস্থ্যের লক্ষণই নয়৷’’

একই সঙ্গে তিনি অবশ্য বলেন, ‘‘যেভাবে এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে আন্দোলনের সময়, সেটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়৷’’ অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে সিপিএম সমর্থিত ডাক্তারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস, ওয়েস্ট বেঙ্গলের যুগ্ম সম্পাদক, ডাক্তার মানস গুমটা বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য দফতরে বদলির কোনও নীতিই নেই৷ বেছে বেছে বদলি করা হচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো সুস্থ ছিলেন না৷ কিন্তু, যেভাবে তিনি এ দিন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটা থেকেই বোঝা যায় স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কতটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷’’

এ দিনের ঘটনার জেরে যে সব অভিযোগ উঠছে খোদ সরকারি ডাক্তারদেরই তরফে, সেই সব বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত ডাক্তারদের সংগঠন প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (পিডিএ)-এর সভাপতি, বিধায়ক ডাক্তার নির্মল মাজির বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন কল না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷ বদলি সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব অনিল ভার্মার বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তাঁরও বক্তব্য মেলেনি৷ এ দিকে, জানা গিয়েছে, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন স্ট্রোক (ব্রেন অ্যাটাক)-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ বাড়িতে তাঁর স্ত্রী এবং মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া একমাত্র পুত্র আছেন৷

----
--