পাতালে আশঙ্কা থাকলেও ইস্ট-ওয়েস্টে আত্মহত্যায় দাঁড়ি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার পেট ফুঁড়ে রেল চলেছিল৷ এরপর থেকেই কলকাতার গর্বের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে পাতাল রেল৷ কম সময়ে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে যাওয়ার একমাত্র লাইফ লাইন৷ মাটির তলায় রেল চলবে? সে সময় সারা দেশেই তা ছিল কল্পনার অতীত৷ যাবতীয় প্রশ্নচিহ্ন মুছে দিয়ে কলকাতার ব্যস্ত দিনে চলাচলের সঙ্গী হয়ে ওঠে কলকাতা মেট্রো৷

তবে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে শহর কলকাতাও৷ ২০১৮ সালই কলকাতায় চলবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো৷ কিছুটা উড়ালপথে, কিছুটা পাতাল হয়ে ইস্ট-ওয়েস্টের রেলগাড়ি প্রবেশ করবে গঙ্গার তলায়৷ গঙ্গা পেরিয়ে হাওড়া স্টেশন হয়ে ময়দানে গিয়ে মাথা তুলবে রেল৷ নদীর নীচে ট্রেন চলবে ভারতে? তাও আবার কলকাতাতেই প্রথম? এখন থেকেই উত্তেজনায় ফুটছে পথ চলতি বাঙালী৷

- Advertisement -

কলকাতার সেই সাবেক পাতাল রেলের সঙ্গে আপেক্ষাকৃত প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর বেশ কিছু তফাত রয়েছে৷ সময় বিচার করলে তা থাকাটাই স্বাভাবিক৷ তবে যাত্রী হিসেবে প্রাথমিকভাবে যে বিষয়টি বড়সড় তফাত হিসেবে আপনার চোখ টানবে তা হল : প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর৷ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা প্রতিহত করার জন্য বিশেষ এই ব্যবস্থা পশ্চিমের দেশগুলির মেট্রো স্টেশনে বেশ দেখা যায়৷ তিন দশক পুরানো কলকাতার অভিজাত পাতাল রেলে ওই ব্যবস্থা নেই৷ কিন্তু, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে তা থাকবে৷

মেট্রোর উড়ালপথে রয়েছে ৬টি স্টেশন এবং ৫.৮ কিলোমিটার পথ৷ কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে করপোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল) নামে সরকারি সংস্থা ওই রেলপথ তৈরির দায়িত্বে আছে৷ কেএমআরসিএল-এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই থাকবে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর৷ আপাতত সল্টলেকের দিকে থেকে যে ৬টি স্টেশনে রেল পরিষেবা চালু হবে, তার ৪টিতে (সেক্টর ফাইভ, করুণাময়ী, সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামে) ইতিমধ্যেই এই গেট বসে গিয়েছে৷ কেএমআরসিএল সূত্রের খবর, ট্রেন কনট্রোল অ্যান্ড মনিটোরিং সফটওয়ারের সাহায্যে পুরো ব্যবস্থাটাই নিয়ন্ত্রিত হবে৷ ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে তবেই গেট খুলবে৷ যাত্রীরা ট্রেনে ঢুকতে পারবেন৷

কলকাতার পাতাল রেলে অবশ্য এইসহ ব্যবস্তা এখনও পর্যন্ত নেই৷ দিনের পর দিনে পাতাল রেলের বিভিন্ন স্টেশনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ বছর দশেক আগে একবার আত্মহত্যার ঘটনা আটকানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা হয়ে ওঠেনি৷ কিন্তু তা কেন সম্ভব হল না? কলকাতা মেট্রো রেলের (পাতাল রেলের) চিফ পাবলিক রিলেশন অফিসার ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের বিষয়টি নিয়ে এখন আর কোনও চিন্তা ভাবনা করছে না রেল৷ এছাড়া, মেট্রো রেলে আত্মহত্যার ঘটনা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে৷ আত্মহত্যার ঘটনাও অনেকাংশে কমে গিয়েছে৷

কবে কলকাতাবাসী চড়তে পারবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো? অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়ামে পর্যন্ত ট্রেন চালু হবে৷ প্রথম পর্যায়ে পরবর্তীকালে আরও দুটি স্টেশন বাড়বে (ফুলবাগান এবং শিয়ালদহ)৷ এসপ্ল্যানেড, মহাকরণ, হাওড়া স্টেশন এবং হাওড়া ময়দান ট্রেন চালু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ে৷ কাজও বিস্তর বাকি আছে৷ ফুলবাগান থেকেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পাতাল প্রবেশ ঘটেছে৷ মহাকরণ থেকে গঙ্গাগর্ভ দিয়ে ট্রেন পৌঁছাবে হাওড়ায়৷ সেদিন এখনও অনেক দূরে৷

Advertisement ---
---
-----