শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: এক সময় কোচবিহার-১ নম্বর ব্লকের ডাউয়াগুরির প্রত্যন্ত ঘোষ পাড়ায় বড় হয়েছেন তিনি৷ সেখান থেকে এখন রাজ্যের ডাকসাইটে মন্ত্রী। তাতে কি! শিকড়ের টান কি কখনও ভোলা যায়! তাই সময় পেলেই ডাউয়াগুড়িতে নিজের পৈতৃক বাড়ি ঘুরে আসেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷

বর্তমানে পরিত্যক্ত এই বাড়ি। টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরগুলির সামনে দাঁড়িয়ে নস্টালজিক হয়ে যান মন্ত্রী৷ রবীন্দ্রনাথবাবু জানান, ১৯৮২ সালে সিপিএমের হামলায় প্রাণ হারান তাঁর এক ভাই। তখন থেকেই পরিবারকে নিয়ে পাকাপাকিভাবে কোচবিহারে চলে আসেন তিনি। ফলে দেখভালের অভাবে বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘তবে শিশুবেলা, কৈশোরের সেই স্মৃতি আমাকে সবসময় পিছু টানে৷ তাই সময় পেলেই আমি বাবার ভিটেতে ছুটে আসি৷ বছরে অন্তত এক বা দু’বার এখানে আসি৷’’

ডাউয়াগুড়িতে জনসংযোগে সেরে এদিন নিজের পৈতৃক ভিটেতে যান রবীন্দ্রনাথবাবু৷ কথা বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে৷ উন্নয়নের হাল হকিকতের খোঁজ নেন৷ কথায় কথায় ফিরে যান প্রায় চার দশক আগের স্মৃতিচারণায়৷ আবেগঘন রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন,‘‘ ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বাড়িতে, এই গ্রামের সঙ্গে৷’’ মূলত কৃষক পরিবারের ছেলে রবীন্দ্রনাথবাবু নিজেও একটা সময় কৃষিকাজ করেছেন যখন এই বাড়িতে ছিলেন। ১৯৮২ সালে সিপিএমের অত্যাচারে সপরিবারে বাড়ি ছাড়েন৷ তখন থেকেই কোচবিহারের নতুনপল্লির স্থায়ী বাসিন্দা তিনি।

গ্রামের বাড়িতে পড়ে থাকা জমিতে প্রয়াত পিতার নামে কিছু করতে চান তিনি৷ যাতে এলাকার মানুষের তা কাজে লাগে। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই বাড়িটিকে যত বার দেখি ততই ছোটবেলার দিনগুলিতে ফিরে যাই৷ ভালো লাগে এখানে আসতে৷ আমার শুরুর দিনগুলোর সাক্ষী এই বাড়ি৷ ইচ্ছে আছে বাবার স্মৃতিতে এই বাড়ি ঘিরে গ্রামবাসীদের জন্য কিছু করার৷”

টিনের বাড়িগুলি এখন ভগ্ন৷ উঠোনে, বারান্দায় ঝড়া পাতা পড়ে হয়েছে। সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সঙ্গে থাকা মানুষদের কাজে অতীতের কথা শোনালেন তিনি। কখনও বা নস্টালজিক মন্ত্রী বাড়ির শিকের জানালার ফাঁক দিয়ে একটু দেখার চেষ্টা করলেন ঘরের ভেতরটা। মন্ত্রীকে পেয়ে আপ্লুত এলাকার বাসিন্দারাও বলছেন, ‘‘এটা ভালোলাগে যে উনি নিজের অতীতকে ভুলে যাননি৷ তাই তো বারে বারে ছুটে আসেন গ্রামের বাড়িতে, বাবার ভিটেতে৷’’

--
----
--