সুমন বটব্যাল, কলকাতা: বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে৷ এবার খাতায় কলমে করে দেখানোর পালা৷ তাই ঘাসফুলে ভরা বাংলায় পদ্ম ফোটাতে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই জেলা সফরে যাচ্ছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ মুকুল ঘনিষ্ঠ শিবির সূত্রের খবর, জঙ্গলমহল থেকেই জেলা সফর শুরু করবেন মুকুল রায়৷ কোন জেলায় কবে যাবেন চলছে তারই চূড়ান্ত ‘সিডিউল’ তৈরির কাজ৷

শুক্রবার গেরুয়া নামাবলী গায়ে চড়ানোর পর বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরে বসেই দৃঢ় কন্ঠে মুকুল রায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘২০২১ সালে তৃণমূলকে হঠিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি৷’’ এদিন টেলিফোনে kolkata24x7কে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘বাংলার মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে৷ অপেক্ষা করুন৷ সব দেখতে পাবেন৷ তৃণমূলের ভাঙন এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা৷’’

Advertisement

আগামী ৬নভেম্বর কলকাতায় ফিরছেন তৃণমূলের প্রাক্তন ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’৷ এয়ারপোর্ট থেকেই সরাসরি যাবেন বিজেপি-র রাজ্য দফতরে৷ ১০ তারিখ রাজ্যের জনসভায় উপস্থিত থাকবেন৷ তারপরই নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ জেলা সফর শুরু করবেন তিনি৷ ঘনিষ্ঠ মহলে মুকুল রায় জানিয়েছেন, জেলায় জেলায় নব্য তৃণমূলীদের দাপটে আদি তৃণমূলীদের সিংহভাগ অপমানিত হচ্ছেন৷ কোথাও কোথাও অত্যাচারেরও শিকার হচ্ছেন তাঁরা৷ তাঁরা সকলেই পা বাড়িয়ে রয়েছেন৷ আমি গ্রিন সিগন্যাল দিলেই তাঁরা দলে দলে বিজেপিতে নাম লেখাবেন৷

সূত্রের খবর, নভেম্বরের ১৩ কিংবা ১৪ তারিখ একদা মাওবাদীদের গর্ভগৃহ লালগড় থেকেই জেলা সফর শুরু করবেন মুকুল রায়৷ লালগড়, ঝাড়গ্রাম হয়ে মেদিনীপুর৷ সেখান থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া৷ প্রথম পর্যায়ে জঙ্গল মহলের চার জেলায় সফর করবেন তিনি৷ মুকুল শিবিরের দাবি, দাদা বিজেপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের অন্তত ৬০ শতাংশ কর্মী, সমর্থকের ভাঙন নিশ্চিত৷

মুকুল ঘনিষ্ট এক কর্মীর কথায়, ‘‘দাদা তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই জেলার অনেক তৃণমূল নেতা, কর্মীরা দাদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন৷ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সেই ফোনের সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছে৷ প্রতি মুহুর্তে বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের নেতা, কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়ে ফোন করছেন৷ দাদা সকলকেই বলছেন- ৬ নভেম্বরের পর কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দফতরে আসতে৷’’

----
--