স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: কয়েকদিন আগেও এক ভয়ঙ্কর মারণ খেলায় মেতে উঠেছিল গোটা বিশ্ব৷ নাম ছিল ব্লু হোয়েল৷ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হত সেই খেলায়৷ আর না পারলে মৃত্যু অপেক্ষা করত সামনে৷ সেই ব্লু হোয়েলকে টেক্কা দিতে হাজির আরও এক মারণ খেলা৷ নাম মোমো গেম৷ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছে মোমো গেম নামে এই মারণ খেলাটি৷ নিস্তার মেলেনি রাজ্যবাসীরও৷ মোমো গেমের আতঙ্ক গ্রাস করেছে জলপাইগুড়ি শহর সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়৷ জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের এক ছাত্রের মোবাইল ফোনেও পৌঁছেছে মোমো গেমের লিংক৷ যেখানে টাচ করলেই শুরু মারণ খেলা৷

খেলার শুরু হয় চ্যাটের মাধ্যমে৷ প্রথমে আসে ‘Hi’ ম্যাসেজ৷ তারপর বলা হয় ‘I am Momo’. এতে যদি কেউ পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চায় এই মোমো কে? তখন বলা হয় ‘It is my name. Shall we play a game?’ কখনও কখনও ভয় দেখাতে বলা হয় তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়ে গিয়েছে৷ সে যদি না খেলে তাহলে তার অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার করা হবে৷ এমনকি কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে তাঁর ফোনের কল লিস্টের হুবহু ছবিও পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷

গেমের শেষটা হয় মৃত্যু দিয়ে৷ শর্ত, খেলা মাঝ পথ থেকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না৷ শেষ পর্যন্ত এগোতে হবে৷ না পারলে নানা রকম চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আত্মহত্যাই চূড়ান্ত৷ রাজ্যের বাইরে এমনকি ভিন দেশেও এই গেমটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল৷ এবার খোদ জলপাইগুড়িতে কোপ বসায় মোমো৷ মঙ্গলবার শহরের এক কলেজ ছাত্রী কোতোয়ালী থানায় এই গেমটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যে এই মারণ খেলার টোপে পা দিয়ে মারা গিয়েছে বেশ কয়েকজন। এই একই দৃশ্য যেন জলপাইগুড়িতে না হয় সেই কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজে সচেতনতা প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মূলত স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদেরকে টার্গেট করছে এই মারণ খেলার অ্যাডমিনরা। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে শহরের পি.ডি. কলেজ ছাত্রী কবিতা রায়ের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ আসে মোমো নাম করে। ম্যাসেজে একই ভাবে বলা হয় ‘Hi, I Am Momo’৷ তারপর কবিতা রিপ্লাই দেয় ‘Who’৷ এর পাল্টা মোমোর থেকে উত্তর দেওয়া হয় ‘It is my name, shall we play a game?’ এই ম্যাসেজটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি কবিতা তাঁর দাদাকে জানান। এরপরেই নম্বরটা ব্লক করা দেয় সে।

ফের কেউ যেন এই রকম ম্যাসেজ এলে উত্তর না দেয় এই বার্তাই দেয় কবিতা। অন্যদিকে, কৌতূহল বশত কেউ যেন এই মোমোর ম্যাসেজ বা গেমের প্রলোভনে পা না দেয় এই কারণে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করেন কবিতা। কবিতা জানান, তাঁর মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সে হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস দেয় ‘আমি মরে যাব’। এই কথাটি বলার কিছুক্ষণ পরেই কবিতার হোয়াটসঅ্যাপে মোমো নাম করে একটি অচেনা নম্বর থেকে ম্যাসেজ আসে। তবে তাঁর নিজস্ব সাবধানতায় সে হয়ত বেঁচে গেল। এদিকে পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে কবিতার মোবাইলে যে নম্বর থেকে ম্যাসেজ পাঠায় মোমো সেই নম্বরটির লোকেশনও ট্র‍্যাক করে জানতে পারে আমেরিকার এলাকার একটি জায়গা।

এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ির আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, ‘‘মোমো গেম বিষয়টি ভয়ঙ্কর৷ এর মাধ্যমে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আমরা স্কুল কলেজগুলিতে লাগাতার সচেতনতার প্রচার চালাব। শুধু তাই নয়, অভিভাবকদেরকেও এই ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে৷’’

----
--