মন ভরে সাজার আদর্শ সময় শীতকাল৷ না না৷ ভুরু কোঁচকাবেন না৷ ডার্ক কালার চুটিয়ে পড়ার এই তো সময়৷ সঙ্গে যত খুশি সাজুন৷ কী ভাবছেন? শীত পোশাকের আড়লে সব চাপা পড়ে যায়? শীত পোশাকটাই ফ্যাশনের অন্যতম হাতিয়ার! ট্রেণ্ড মেনে নিজেও এই শীতে হয়ে উঠুন ফ্যাশন ডিভা৷ আর কটা দিন পড়েই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়বে৷ আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অন্তত তাই বলছে৷ সেই শীতে জবুথবু না হয়ে থেকে চমকে দিন আপনার নতুন সাজে৷ কিচ্ছু খাটনি নেই তাতে৷ আপনার চেনা শীতের পোষাক একটু অন্যভাবে পড়লেই ফ্যাশন মোড় ঘুরে যায়, জানেন কি সেটা?

ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করেন, বছরের সেরা ঋতু শীতকাল। এই সময়টায় ফ্যাশন নিয়ে যত খুশি এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। পুরনো দিনের শাল-সোয়েটারকে নতুনের কম্বিনেশনে মিলিয়ে যেমন বদলানো যায় হালফিলের ফ্যাশন ট্রেন্ডকে, তেমনি নিত্যনতুন স্টাইলিশ পোশাক আর অ্যাকসেসরিজে হয়ে ওঠা যায় সেন্টার অব অ্যাট্রাকশন। আসুন দেখে নেওয়া যাক এবারের শীতফ্যাশনে কী কী আপনার ওয়ার্ডরোবে থাকতেই হবে–

স্কার্ফ: অল্প ঠান্ডায় যদি নিজেকে স্টাইলিশ দেখাতে চান, তাহলে আপনার জন্য ভালো অপশন স্কার্ফ। ফুল ভি-টপ বা টি-শার্টের সঙ্গে নিতে পারেন। ঠান্ডা লাগলে খুলে গায়ে জড়িয়ে নিন। কম ঠান্ডায় আরামও পাবেন, আবার সারাদিন ধরে বেশি গরমজামা ক্যারি করারও ঝামেলা নেই। সালোয়ার, কুর্তি বা জিনস-কুর্তির সঙ্গে ঘাড়ে পেঁচিয়ে কাঁধের দুধার দিয়ে ফেলে রাখলে ডিজাইনটাও ফুটবে।

 

লেদার জ্যাকেট: শীতকালে স্মার্ট এবং ঝকঝকে দেখাতে গেলে লেদার জ্যাকেটের কোনও জুড়ি নেই। ফ্রন্ট ওপেন আর সামনে একটা নটেড স্কার্ফ-ফ্যাশনিস্তদের মধ্যে এবার এই ট্রেন্ডটা খুব জনপ্রিয়। এবং আগামি কয়েক জেনারেশনের কাছেও এই ফ্যাশনটার কদর নিঃসন্দেহে থাকবে। জিনস, ডেনিম বা লং ফ্লেয়ারড স্কার্টের সঙ্গে লেদার জ্যাকেট দেখতে খুবই আকর্ষণীয় লাগে। আবার লেগিংস-কুর্তির উপরেও মানিয়ে যায়।

লেদার ড্রেস: গত কয়েক বছর আগের লেদার পোশাকের ক্রেজটা ফিরে এসেছে এবারে। লেদারের পোশাক, ট্রাউজার্স বা স্কার্টে ভরিয়ে তুলুন আপনার সাধের ওযার্ডরোবটি। দিনের বেলায় হালকা ঠান্ডায় শরীর ঘিরে থাকবে আরামের স্পর্শ।

 

স্টেটমেন্ট কোট: প্রতিদিনের অফিস যাওয়ার সময় যদি কর্পোরেট গেটআপে নিজেকে তৈরি করতে হয়, তাহলে স্টেটমেন্ট কোটের চেয়ে ভালো বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। বিশেষ করে ব্ল্যাক বা ব্রাউনের মতো রংগুলো। বেইজ, গ্রে বা ব্ল্যাক ট্রাউজারের সঙ্গে এগুলো দুর্দান্ত মানিয়ে যায়। ইভনিং ওয়্যার হিসাবেও দিব্যি চলে যাবে, যদি বিকেলে কোথাও পার্টিতে যাওয়ার থাকে।

পঞ্চু: ভারতীয় ফ্যাশনে পঞ্চুর ব্যবহার বেশ পুরনো। আগেকার দিনে এই পঞ্চুতেই সারা শরীর গরম রাখা হতো। মাথা দিয়ে গলিয়ে পরা এই কাশ্মীরি পোশাকটি শরীরকে গরম রাখতে বেশ উপকারী, কেননা এর মেটেরিয়াল তৈরি হয় মোটা উল থেকে। তাছাড়া একঘেয়ে শাল-সোয়েটারের মাঝে পঞ্চু একটা স্টাইলিশ বিকল্প।

কাশ্মীরি সোয়েটার: সাধারণ বোটনেকের কাশ্মীরি সোয়েটার ছাড়া শীতফ্যাশন অসম্পূর্ণ। সোয়েটারের কারুকার্যতে একদিকে যেমন ক্লাসিক লুক থাকে, তেমনি এখন আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মানানসই করে বোনাও হচ্ছে। স্টাইল করতে চাইলে কয়েকপিস কিনে রাখুন।

ফার: বহু প্রাচীনকাল থেকেই শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফার। বড় বড় ফ্যাশন হাউসগুলো এবছরেও তাদের কালেকশনে নিয়ে এসেছে ফারের জ্যাকেট, সোয়েটার, ফ্যান্সি ড্রেস। নিউ ইয়ার পার্টি বা ক্রিসমাস ইভে পরে গেলে সকলেই আপনাকে বাহবা দেবেন।

স্পোর্টস শ্যু: শীতকাল মানেই ঘোরা, বেড়ানো, পিকনিক, দেদার হুল্লোড়, তো সেই অবসরে মেনস্ট্রিম ফ্যাশনের বাইরে কিছু করতে চান? তাহলে আপনি বেছে নিন স্পোর্টস শ্যু বা একটু ব্র‌্যান্ডেড স্নিকার্স। সারাদিনের ঘোরা-বেড়ানোতে থাকবেন কমফর্টেবল।

বুট: ষাটের দশক থেকে মেনস্ট্রিম ফ্যাশনে বুটের আনাগোনা, আর আজকের ফ্যাশনিস্তাদের ওয়ার্ডরোবে একটা অন্তত বুট থাকবেই। বিদেশের মতো অত লম্বা বুট না হলেও একটু মাঝারি হাইটের বুট জিনসের সঙ্গে ভালো অপশন। বিশেষ করে বলব লেদার জ্যাকেটের সঙ্গে পায়ে বুট– সব মিলিয়ে লুকটা সুপার স্টাইলিশ হবে।