দেবযানী সরকার, কলকাতা: অসমের এনআরসি ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে গেল বাংলার দুর্গাপুজো৷ সরকারি খাতায় ৪০ লক্ষ অসমবাসীর রাতারাতি অনুপ্রবেশকারী হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ জানাচ্ছে উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি সার্বজনীন৷ বাংলাদেশের শিল্পীকে দিয়ে দুর্গাপুজোর থিম সং গাইয়ে নীরব বার্তা দিতে চলেছে তারা৷ শুধু তাই নয়, পুজোর উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, একজন মুসলিম সঙ্গীতশিল্পীকে দিয়ে পুজোর গান গাইয়ে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির প্রতিবাদও জানানো হবে৷

প্রতিবছরই কুমোরটুলি সার্বজনীনের মণ্ডপসজ্জায় সামাজিক বার্তা থাকে৷ এই পুজো কমিটির দাবি, এবছর থিম সং-এর মধ্য দিয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজনীতির কারবারিদের বার্তা দেওয়া হবে৷ এবছর তাদের থিম ‘মাটির ফিসফাস’৷ সেই মাটির গান গাইবেন বাংলাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান৷ শুক্রবার সকাল ১০টায় উষা উত্থুপের স্টুডিও-তে রেকর্ডিং হবে সেই গান৷

Advertisement

আইন নিয়ে এমএ করা এই শিল্পী নিজেও তাঁর গানের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চান। ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানের প্রথম একক এলবাম গানপোকা থেকে বের হয় ২০০৮ সালে। অ্যালবামটির নাম ছিল ‘সায়ানের গান’। এর পরের বছর ২০টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘আবার তাকিয়ে দেখ’। তাঁর আর একটি অ্যালবামের নাম হলো ‘স্বপ্ন আমার হাত ধরো’। সায়ানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাকা বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ফেরেদৗস ওয়াহিদ৷

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে দুই বাংলার বরাবরই মেলবন্ধন থাকে৷ কিন্তু কলকাতার সার্বজনীন দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বাংলাদেশের মুসলিম শিল্পী গান গাইছেন৷ কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? কুমোরটুলি পুজো কমিটির বহু পুরোনো উদ্যোক্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ”অনুপ্রবেশ নিয়ে যে রাজনীতি চলছে এটা তারই প্রতিবাদ৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে বেছে বেছে বাঙালির উপর আঘাত হানার চেষ্টা চলছে, তাই এদেশের দুর্গাপুজোয় অন্য দেশের সঙ্গীতশিল্পীর অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছি৷ আর এই হিন্দু-মুসলিম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতেই হিন্দুদের সবথেকে বড় উৎসবে একজন মুসলিম শিল্পীকে সামিল করছি৷”

গত বছর কুমোরটুলি সার্বজনীনের পুজোয় বড় চমক ছিল অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আবৃত্তি৷ এবছর দুর্গা মন্ডপের আবহে বাজবে ফারজানা গান৷ যে গান উৎসবের আঙিনায় মনুষ্যত্বের পাঠ দেবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা৷

----
--