সুভাষ বৈদ্য ও সুমন বটব্যাল,কলকাতা: উল্টোডাঙার মুচিবাজার। এজেসি বোস ফ্লাইওভার৷ রাসবিহারী অ্যাভিনিউ৷ ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪ জনের মৃত্যু ফের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল৷ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দুর্ঘটনা রুখতে ধারাবাহিকভাবে পুলিশ একাধিক পদক্ষেপ নিলেও দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না কেন?

বাসের রেষারেষিতে মঙ্গলবার রাতেই উল্টোডাঙার মুচিবাজারে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের৷ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতের কলকাতায় এজেসি ফ্লাইওভারে মৃত্যু হয়েছে হেলমেট বিহীন দুই বাইক আরোহীর৷ আবার বুধবার ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়ে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় প্রাণ খুইয়েছেন এক ব্যক্তি৷ কদিন আগেও শহর কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে হেলমেটবিহীন বেপরোয়া এক বাইক চালকের৷ তিলোত্তমায় ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মিছিল যেন অব্যহত৷ কোনও কোনও মহলের মতে, পুলিশ তৎপর হলেও কলকাতার বাইক কিংবা একাংশ বাসের বেপরোয়া চালকরা রয়েছেন নিজস্ব মেজাজেই৷ ট্রাফিক আইনের নুন্যতম নিয়মটুকু তাঁরা মানছেন না৷ তারই জেরে বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা৷

কলকাতা সহ সারা রাজ্যে দুর্ঘটনা রোধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছেন ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’প্রকল্প৷ হেলমেট পড়া বাধ্যতামূলক করতে পেট্রোল পাম্পে হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের পেট্রোল না দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ৷ এরই পাশাপাশি শহর জুড়ে কলকাতা পুলিশ নাকা চেকিং করছে৷ একই সঙ্গে বাইক থামিয়ে চালকদের সচেতনও করা হচ্ছে৷ হেলমেট পড়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হচ্ছে৷ কোথাও ফুল, কোথাও বা মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে৷ এমনকি স্কুলের কচিকাঁচাদের দিয়েও বাইক চালকদের সচেতন করার প্রয়াস অব্যহত৷

শুধু তাই নয় সরকার ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থার তরফে শহর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাইক চালকদের বিনামূল্যে হেলমেট বিতরণও করা হয়েছে৷ তারপরও যাঁরা হেলমেট পড়ছেন না, তাঁদের হেলমেট পড়া বাধ্যতামূলক করতে বাড়ানো হয়েছে জড়িমানার পরিমাণও৷

পুলিশ সূত্রের খবর, পার্কসার্কাস, রাজাবাজার, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, টালিগঞ্জ, মা ফ্লাইওভার, এজেসি বোস ফ্লাইওভার, কামালগাজি ফ্লাইওভার, সুকান্ত সেতু, বাগুইআটি ফ্লাইওভার প্রভৃতি এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির সংখ্যা বেশি৷ স্বভাবতই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারিও৷ এমনকি বেপরোয়া বাইক রোমিওদের দৌরাত্ম্য রুখতে রাতের দিকে ফ্লাইওভারগুলিতে বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷

তবু দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না কেন? কেনই বা হেলমেট না পড়ার প্রবণতা ঠেকানো যাচ্ছে না? কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) নিখিলেশ জৈন বলেন, ‘‘

ধারাবাহিক নাকা চেকিংয়ের জেরে বেপরোয়া বাইক ও বাস চালকদের দাপট আগের চেয়ে অনেকখানি কমানো সম্ভব হয়েছে৷ সিসিটিভির মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, ‘‘যিনি বাইক চালাচ্ছেন বা বাস চালাচ্ছেন তিনি নিজে যদি সতর্ক না হন, তাহলে আমাদেরই বা কি করার আছে৷ সবটা তো আর আইন করে জোর করে করা সম্ভব নয়৷ কেউ যদি নিজের জীবনের দাম না বোঝে, পরিজনদের কথা না ভাবে তাহলে আমরাই বা করি কি?’’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা রোধে আগামীদিনে আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ৷

যদিও শহরবাসীর একাংশের অভিমত, বহু ক্ষেত্রে পুলিশি নজরদারিতে ঘাটতি থাকে৷ তারওপর বাইক রোমিও কিংবা বেপরোয়া বাস চালকদের রেষ৷রেষির প্রবণতা রয়েছে৷ ফলে রাজপথে এখন রীতিমতো প্রাণ হাতে করে নিয়েই যাতায়াত করতে হয়৷ সকলেরই দাবি, বেপরোয়া চালকদের এই দৌরাত্ম্য রুখতে ট্রাফিক আইনকে আরও কড়া করা হোক৷ তাতে অন্তত, ভক্তিতে না হোক ভয়ে বেপরোয়া চালকরা কিছুটা হলেও শোধরাবেন৷

----
--