সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আলিপুর চিড়িয়াখানায় ক্রমশ কমছে দত্তক নেওয়ার হার৷ তবে, কেন এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তার তেমন কোনও কারণও খুঁজে পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানায় পশু-পাখিদের খরচ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৩-য় দত্তক দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে৷ তবে, চালু হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যেই কেন দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ কমে গেল, তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা।

Advertisement

আলিপুর চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে ৪০টি পশু-পাখিকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল। পশু দত্তক নেওয়ার তালিকায় হর্ষ নেওটিয়ার মতো শিল্পপতি থেকে শুরু করে দেবশ্রী রায়ের মতো টলি-অভিনেত্রীও ছিলেন বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, বর্তমানে সেই তালিকায় তাঁদের মতো কেউ নেই বলেও জানানো হয়েছে৷ একই সঙ্গে ২০১৩-য় যেখানে ৪০টি পশু-পাখিকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল, চলতি বছরে সেই সংখ্যাটা কমে মাত্র সাতটিতে এসে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ।

এই চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত বলেন, ‘‘প্রথম দুই বছরে দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য এসেছিল। তার পর, মানে ২০১৫ থেকেই এই হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। গত তিন মরশুমে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে দত্তক নেওয়ার হার৷’’আলিপুর চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-’১৬ মরশুমে ১৫টি পশু-পাখিকে দত্তক দেওয়া হয়। ২০১৬-’১৭ মরশুমে এই সংখ্যাটা আরও একটু কমে যায়। ওই বছরে দত্তক নেওয়ার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৩-তে। ২০১৭-’১৮ বছরে এই অবস্থা আরও খারাপ৷ ১৩ থেকে সংখ্যা এসে দাঁড়ায় মাত্র আটটিতে।

অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত বলেন, “আমরা গত পাঁচ বছরে দত্তক দেওয়া জন্য টাকার অংকও বৃদ্ধি করিনি। তাই আমার মনে হয় না এটা কোনও কারণ হতে পারে বলে।” তবে কি পশু-পাখিদের প্রতি সচেতনতা হারিয়ে যাচ্ছে? তিনি বলেন, “ আমি মনে করি না পশু-পাখিদের প্রতি সচেতন নন মানুষ৷ আসলে আমরা কেউই ঠিক বুঝতে পারছি না কেন এমন ভাবে দত্তক নেওয়ার হার কমছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যথেষ্ট ভাবে প্রচারের চেষ্টা করছি। দেখা যাক কী হয়।”

চিড়িয়াখানা সুত্রে খবর, ২০১৮-’১৯ অর্থাৎ, চলতি মরশুমের জন্য শেষ তিন মাসে মাত্র সাতটি পশু-পাখিকে দত্তক নেওয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৮-’১৯ মরশুমের দত্তক দেওয়ার তালিকায় রয়েছে তিনটি বাঘ, দু’টি সিংহ, একটি চিতাবাঘ এবং একটি ময়ূর৷

----
--