উড়বে সুখোই-ছুটবে ব্রহ্মোস! চিনকে টার্গেট করে জোর প্রস্তুতি ভারতের

গোয়া: লক্ষ্য চিন। সেই টার্গেট মাথায় রেখেই সমুদ্র উপকূল জুড়ে সাজানো হচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীর নিউকক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন আইএনএস চক্র। বিশ্বের অন্যতম দ্রুত সাবমেরিন এটি, যা রাশিয়া থেকে লিজ নেওয়অ হয়েছে। আর চিনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মুখের উপর জবাব দিতেই গোয়া উপকূলে সাজানো হচ্ছে এই আইএনএস চক্র। ভারত মহাসাগরে চলছে ব্যাপক তোড়জোড়।

কেবলমাত্র চিন নয়, পাকি সাবমেরিনকেও যাতে ধ্বংস করে দেওয়া যায় তার জন্যই শুরু হচ্ছে বিশেষ নৌমহড়া। একমাত্র চক্র নয়, TROPEX 2017 নামের এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ভারতের অন্তত ৬০টি কোস্ট গার্ড ভেসেল। পশ্চিম উপকূলে হবে সর্বকালের বৃহত্তম এই মহড়া।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে আগাত্তি ও আন্দ্রোথ নামের লাক্ষাদ্বীপের দুটি দ্বীপ থেকে বাসিন্দাদের নিয়ে আসা হয়েছে। আইএনএস বিক্রমিআদিত্যতে রাখা হবে MiG-29K ফাইটার জেট। পুনের এয়ারবসে থেকে উড়বে Sukhoi-30।

মহড়ায় সুখোই শত্রুবিমান হিসেবে কল্পনা করে প্রতি আক্রমণে যাবে অন্যান্য যুদ্ধবিমানগুলি। অন্যদিকে, শত্রুপক্ষের ছদ্মবেশে থাকা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ছোঁড়া হবে ব্রহ্মোস সহ একাধিক ক্রুজ মিসাইল। ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা শত্রুপক্ষের জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারবে এমন সব প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও এই মহড়ায় যুক্ত হচ্ছে নতুন রিফুয়েলিং ট্যাংকার। সমুদ্রের উপরে দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধ চালাকালীন যাতে জ্বালানির অভাবে বসে যেতে না হয় তার সব ব্যবস্থাই এখন রয়েছে ভারতের।

- Advertisement -

এর আগে যে কোনও একটি বাহিনীর মহড়াতেই যোগ দেওয়া হত। কিন্তু এক্ষেত্রে একইসঙ্গে মহড়া চালাবে বায়ুসেনা ও নৌবাহিনী। যা পাকিস্তানের কাছে রীতিমত আতঙ্কের। কারণ এবার কোনও দেশ তাদের দুটি বাহিনী নিয়ে একসঙ্গে আক্রমণ করলেও তা প্রতিহত করার ক্ষমতা থাকবে ভারতের।

এছাড়া, এক নতুন বাহিনীও তৈরি করতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আমেরিকার ঢঙে ভারতে তৈরি হচ্ছে ‘থিয়েটার কমান্ড’। শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সামনে পেশ করা হবে সেই বাহিনীর প্রেজেন্টেশন। যার প্রত্যেক কমান্ডে থাকবে একজন কমান্ডারের অধীনে থাকবে আর্মি, এয়ারফোর্স ও নেভির জওয়ানেরা। দেশের তিন বাহিনীর মধ্যে সংযোগ আরও বাড়াতে এই থিয়েটার কমান্ড তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে। সম্প্রতি, আমেরিকার সেনাবাহিনীতেও একই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কিভাবে কাজ করবে এই বিশেষ কমান্ড? সূত্রের খবর, গোটা দেশকে চার থেকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া হবে। প্রত্যেকটি অঞ্চলের জন্য থাকবে একটি করে কমান্ড। সেই কমান্ডের পরিচালনা করবেন কোনও সিনিয়র মিলিটারি অফিসার, তিনি যেকোনও একটি বাহিনী থেকে হতে পারেন। ভারতের ক্ষেত্রে যে অংশে ভাগ করা হতে পারে সেগুলি হল, পাক-চীন সীমান্তের পার্বত্য অংশ, পাক সীমান্তের সমতল ও মরু অংশ, দক্ষিণ অংশ, চিন সীমান্ত ইত্যাদি। দক্ষিণের দায়িত্বে থাকতে পারেন কোনও নেভি অফিসার।

Advertisement
---