অটো-পুলিশ যেন দুই মেরু, ভোগান্তি সেই যাত্রীদের

শেখর দুবে, কলকাতা: বিধাননগর স্টেশন এবং হাডকোর মোড়ের সামনে থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ, করুণাময়ী, এসডিএফ, বিকাশভবন, পূর্তভবন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন জায়গাতে প্রচুর মানুষের রোজের যাতায়াত৷ এর জন্য অটোর উপর ভরসা করে থাকেন নিত্যযাত্রীদের বড় অংশ৷

যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, বেশি ভাড়া চাওয়া, খেয়াল খুশি মতো রুটে অটো চালানো এবং হঠাৎ হঠাৎ অফিস টাইমে অটো ধর্মঘট ডেকে বসা – এসব নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের৷ সোমবার অফিস-টাইমে বিধাননগর-উল্টোডাঙ্গা অটোস্ট্যান্ডে এসে দেখা গেল সল্টলেক রুটের অটো বন্ধ৷

খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুটের ব্যাপারে পুলিশের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে অটো বন্ধ রাখা হয়েছে৷ বিধাননগর ট্রাফিক গার্ডে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়াতে তাঁরা জানান, ‘অটোওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ তবে অটো ইউনিয়ানের সঙ্গে মূল সমস্যা বেঙ্গল পুলিশের৷’

- Advertisement -

আরও পড়ুন:স্বাধীনতা দিবস থেকে নতুন সময়ে চলবে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন

‘‘দাদা সেক্টার ফাইভ যাবেন?’’ এই প্রশ্নের উত্তরে ‘যাবে না , আজ বন্ধ রেখেছি’ শোনাটা যেন অভ্যেসে পরিনত হয়ে গিয়েছে সাধারণ যাত্রীদের৷ সোমবার সকালেও একই অবস্থা৷ প্রচুর নিত্যযাত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন অটোর জন্য৷ সল্টলেক আসার বাসগুলোতে পা রাখার জায়গা নেই৷ অনেকে ঝুলে ঝুলে ফিরছেন৷

কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই অটোওয়ালাদের৷ তাদের স্পস্ট কথা, যাবো না৷ কিন্তু সত্যিই কী একেবারেই যাচ্ছে না অটো? সেটা নয়৷ রিজার্ভ করে বেশি ভাড়া দিলে অনেক অটোওয়ালায় রাজী হচ্ছেন ধর্মঘট তুলে রাস্তায় নামতে৷ কিন্তু সেই ভাড়ার সংখ্যাটা এত বেশি যে সবার পক্ষে যাতায়াত কখনোই সম্ভব নয়৷

হাডকো মোড়ের অটো স্ট্যান্ডে উপস্থিত অটো ইউনিয়নের সেক্রেটারিকে ধর্মঘট নিয়ে প্রশ্ন করাতে তিনি Kolkata24x7-কে জানালেন, ‘‘দেখুন সল্টলেক ট্রাফিকের পক্ষ থেকে আমাদের রুট কেটে দেওয়া হচ্ছে (অর্থাৎ ছোট ছোট রুটে অটো চালাতে হচ্ছে চালকদের)৷ ওদের (পুলিশের) নির্ধারিত সব কটা স্ট্যান্ড ঘুরে আমাদের যেতে বলা হচ্ছে৷ এতে যাত্রী পেতে অসুবিধে হচ্ছে৷ ফাঁকা গাড়ি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে৷ অথচ আমাদের পারমিটে লেখা আছে উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেক এবং সল্টলেক থেকে উল্টোডাঙা৷ আমাদের পারমিট থাকা সত্ত্বেও রুট কাটা হচ্ছে কিন্তু অনেকেই বিনা পারমিটে ওই রুটে অটো চালাচ্ছে৷’’

আরও পড়ুন:দাহ নয় দেহদান হবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের

কখন উঠবে এই অটো ধর্মঘট, এই প্রশ্নের উত্তরে অটো ইউনিয়নের মালিক জানান, ‘‘দেখুন সেটা তো বলতে পারছি না৷ প্রশাসনের পক্ষে কোনও রকম আশ্বাস না পেলে আমরা অটো চালাতে পারব না৷’’

কয়েকদিন আগেই এলাকার বিধায়ক তথা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী সাধন পান্ডে অটো চালকদের নির্দেশ দেন, যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে৷ যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া বা যেমন ইচ্ছা ভাড়া চাওয়া যাবে না।

অটো স্ট্যান্ডের কাছেই একটি বড় বোর্ড লাগানো হবে, যেখানে বিভিন্ন রুটের ভাড়ার তালিকা থাকবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নিতে হবে চালকদের। মন্ত্রী যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেউ কোন সমস্যায় পড়লে সেই নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বর দিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে৷ মন্ত্রী যাই বলুন না কেন তাঁকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের মতই চলছেন অটো৷ মাঝখান থেকে ভুগছেন সাধারণ নিত্য যাত্রীরা৷

আরও পড়ুন:‘আদর্শের সঙ্গে সমঝোতা করেননি সোমনাথ’, দলমত নির্বিশেষে সকলেই একমত

সোমবার হঠাৎ করে অফিস-টাইমে অটো ধর্মঘট নিয়ে বিধাননগর ট্রাফিক গার্ডের পক্ষে বলা হয়, ‘‘অটোওয়ালাদের কিছু অভিযোগ রয়েছে যা তারা জানিয়েছে৷ বিষয়টির দ্রুত সমাধানের চেষ্টাও করা হচ্ছে৷ অটোওয়ালাদের মূল অভিযোগ কিন্তু বেঙ্গল পুলিশকে নিয়ে৷ ওদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে৷’’

পুলিশ বা অটো ইউনিয়ন যায় বলুক না কেন অফিস-টাইমে অটো না পাওয়াতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের৷

Advertisement ---
---
-----