মাতৃভাষার শিক্ষক হতে চায় অলচিকিতে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম এপ্রিল

দিপালী সেন, কলকাতা এবং তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শুরুতেই বাজিমাত করল বাঁকুড়া৷
এই বছরই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অলচিকিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ৷ তাই, এই বছর প্রথম মাতৃভাষায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেল সাঁওতালি পড়ুয়ারা৷

সাঁওতালি ভাষা অর্থাৎ, অলচিকি হরফে পরীক্ষা দিয়ে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাঁকুড়ার মান্দালকুলি নেতাজি বিদ্যাপীঠের ছাত্র এপ্রিল সরেন৷৷ সে ৪২৬ নম্বর অর্থাৎ, ৮৫.২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷ বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত মেলেড়া সংলগ্ন লাকাতা গ্রামে জন্ম এই কৃতি ছাত্রের৷ ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম হয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ছাত্রী সীমা সোরেন৷ সে ৮১.৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷

জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মাধ্যমিক বাংলা ভাষাতেই দিতে বাধ্য হয়েছিল এপ্রিল সারেন ও সীমা সোরেন৷ এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অলচিকি হরফে দিতে পেরে বেজায় খুশি তারা৷ সীমা সোরেন বলে, ‘‘সুযোগ পেয়েছিলাম মাতৃভাষায় পড়ার, মাতৃভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার৷ মাধ্যমিকটা বাংলা ভাষাতেই দিয়েছিলাম৷’’ কেমন লাগল মাতৃভাষায় পরীক্ষা দিতে? সীমা বলেন, ‘‘বাংলার থেকে অনেকটাই সহজ ছিল৷’’ একই ভাবে এপ্রিল সারেন বলেন, ‘‘খুব ভালো লাগছে৷ মাধ্যমিক পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দিয়েছিলাম৷ বাংলার থেকে অলচিকিতে পরীক্ষা সোজা ছিল৷’’

- Advertisement -

জীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অলচিকি ভাষায় দিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম৷ কী অনুভূতি হচ্ছে? সীমা সোরেন বলে, ‘‘ভালোই লাগছে৷ চেষ্টা করেছিলাম৷ তবে এতটা ভালো ফলাফল করব আশা করিনি৷’’ মা-বাবা ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্যের কারণেই সে এই সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে৷ ভবিষ্যতে আইন নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক সীমা৷

ছাত্রদের মধ্যে প্রথম এপ্রিল সরেন জানিয়েছেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা মাধ্যম স্কুলেই পড়াশোনা করেছে সে৷ মাধ্যমিকের পর বাবা-মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সাঁওতালি স্কুলে ভর্তি হয়৷ আর সেই ভাষাতেই পরীক্ষা দিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে খুব খুশি এপ্রিল৷ তবে শুধু বাবা-মা নয়৷ এই সাফল্যের পিছনে শিক্ষক নন্দলাল মাহালের অনুপ্রেরণা ও সাহায্যেরও বড় ভূমিকা ছিল বলে জানাচ্ছে সে৷

এপ্রিলের বাবা চরণ সরেন চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত। মা শিবানী সরেনও সংসার সামলানোর পাশাপাশি তার স্বামীকে সাহায্য করেন। ছেলের সাফল্যে খুশি তাঁরা দু’জনেই। অলচিকিতে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম নিজের মাতৃভাষা নিয়েই পড়াশোনা করতে চায়৷। সে বলে, ‘‘আমি ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে সাঁওতালি পড়ুয়াদের এই ভাষা শেখাতে চাই৷’’ আর এই কাজে সে সাহায্য চায় সরকারী-বেসরকারী সংগঠন গুলির।

কৃতি ছাত্রের সাফল্যে গৌরবান্বিত স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘এপ্রিল তার পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছে। পড়াশুনায় যথেষ্ট মনোযোগী ছিল এপ্রিল৷ সব সময় তার লক্ষ্যে অবিচল ছিল।

শুধু অলচিকি হরফ নয়৷ এই বছর প্রথম উচ্চ মাধ্যমিকে হিন্দি ভাষায় প্রশ্নপত্র হয়েছিল৷ মোট ৪২ টি বিষয়ে হিন্দি ভাষায় প্রশ্নপত্র করা হয়েছিল৷ উর্দু ভাষায় ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মহম্মদ সইফ৷ কলকাতার মোমিন হাইস্কুলের ছাত্র সইফ ৯৩.৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷ উর্দু ভাষায় ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম হয়েছে হাওড়া হাই স্কুলের নিশাত মুনির৷ সে ৯৩.৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷

নেপালি ভাষাতে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়েছে দার্জিলিঙের রামকৃষ্ণ শিক্ষা পরিষদ বয়েজ হাই স্কুলের ছাত্র নিকেশ সুব্বা লিম্বু৷ সে ৮৮.২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷ নেপালি ভাষায় ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম অপ্সরা ছেত্রী৷ দার্জিলিঙের সেন্ট টেরেসা হাই স্কুলের ছাত্রী অপ্সরা ৮৮.৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে৷

Advertisement ---
---
-----