স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: নিজের বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধার পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার৷ মৃতের নাম গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙা এলাকায়৷ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা না গেলেও স্থানীয় কাউন্সিলরের দাবি, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন ওই বৃদ্ধা৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাটজুড়িডাঙায় দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ছিলেন গীতাদেবী৷ তাঁর একমাত্র ছেলে তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পেশায় রেলের চিকিৎসক৷ কর্মসূত্রে পুরুলিয়ার আদ্রায় থাকেন তিনি৷ তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ছেলের কাছে বৃদ্ধা মায়ের জায়গা হয়নি বলেই কাটজুড়িডাঙায় একা থাকতেন গীতাদেবী৷ কার্যত বাধ্য হয়েই একা থাকা বলে দাবি প্রতিবেশীদের৷

অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা প্রায় তিন দিন ধরে বাড়ির বাইরে বেরচ্ছিলেন না৷ রবিবার থেকে পচা গন্ধ পাওয়া যায় গীতাদেবীর বাড়ির ভিতর থেকে৷ তখনই আশেপাশের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়৷ কিন্তু সোমবার তীব্র পচা গন্ধে এলাকা ছেয়ে গেলে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশকে৷

আরও পড়ুন: ফারুখ আবদুল্লার দেখানো পথেই হাঁটছেন মেহবুবা মুফতি?

পরে পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে ওই বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে৷ খবর যায় বৃদ্ধার ছেলে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও বৌমা মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে৷ তবে ঘটনাস্থলে বৃদ্ধার ছেলে ও বৌমা উপস্থিত হলে স্থানীয়রা তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷

মৃতার ছেলে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। তবে শেষ তিন দিন কোনও কথা হয়নি। গীতাদেবী শেষবারের মতো ছেলেকে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন৷ অন্যদিকে, মৃতার বৌমা মিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, আট মাস ওনাদের কাছে থাকার পর শাশুড়ি বাঁকুড়ার বাড়িতে এসেছিলেন। যদিও স্থানীয়রা এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, মৃতার ছেলে-বৌমাকে তাঁরা এই প্রথমবার দেখলেন৷

ঘটনার খবর পেয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছয় এলাকার কাউন্সিলর হিরণ চট্টরাজ৷ তিনি বলেন, ‘‘পাড়ার লোকেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সাধারণ ভাবে দেখে মনে হচ্ছে আগুনে পুড়েই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।’’ বৃদ্ধা মাকে একা ফেলে ডাক্তার ছেলে বাইরে সংসার করছে। তারপর বৃদ্ধার অস্বাভাবিক মৃত্যু। এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: ১২ বছর পর গ্রহের সভায় ফিরছে প্লুটো

একই সঙ্গে এই ঘটনা থেকে আগামী প্রজন্ম কি শিখবে বলেও হিরণবাবু প্রশ্ন তোলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিনই বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়৷ ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ৷

 

----
--