মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে ১০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে মিল কর্তৃপক্ষ

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: নৈহাটি পেপার মিলে দুর্ঘটনায় মৃত ৬ জন শ্রমিকদের পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হল মালিক পক্ষ৷ বিনিময়ে মৃত শ্রমিকদের পরিবার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তা তুলে নেবে৷ রবিবার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক থেকে মিলল এই সমাধানসূত্র৷ ফলে, শীঘ্রই খুলবে কারখানাও৷

রবিবার হালিশহর পুরসভার সভাকক্ষে মৃত শ্রমিকদের পরিবার, মালিকপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে চলা ২ ঘন্টার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মিলল এই সমাধান সূত্র৷ জানা গিয়েছে, এই ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা চলতি সপ্তাহেই মৃতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে দিয়ে দেওয়া হবে। বাকি ৮ লক্ষ টাকা আগামী ৮ মাসে কিস্তিতে মৃত শ্রমিক পরিবারবর্গকে দেওয়া হবে৷ বৈঠকে এই শর্ত মেনে নিয়েছে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।

সূত্রের খবর: মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে একজনকে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠলে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের কোন সদস্যই ‘অভিশপ্ত’ ওই নৈহাটি পেপার মিলে চাকরি করতে রাজি হননি।

- Advertisement -

তাই নৈহাটি, হালিশহর এলাকার তিনজন স্থানীয় মৃত শ্রমিকের পরিবারের একজন করে সদস্যকে হালিশহর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া ও ভাটপাড়া পুরসভার মধ্যে যে কোনও একটি পুরসভায় কাজ দেওয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে আগেই ২ লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে৷

এদিকে এদিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মালিকপক্ষ সেই বিষয়টি মানতে চাননি। মালিক পক্ষের দাবি: নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা কারখানায় নেই। এই দুর্ঘটনা কেন ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হবে। এদিকে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে মালিকপক্ষ রাজি করাতে পারলেও প্রশাসন সূত্রের খবর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে এফআইআর করা হয়েছে তা কোনওভাবেই তুলে নেওয়া হবে না। নৈহাটি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

রবিবার বিকেলে নৈহাটি পেপার মিল কান্ডে হালিশহর পুরসভার সভা কক্ষে যে প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল সেখানে মালিক পক্ষের পক্ষ থেকে অগ্রবাল গোষ্ঠীর সদস্যরা, ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং, হালিশহর পুরসভার পুরপ্রধান অংশুমান রায়, নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় এবং মৃত অশোক বড়াল, অমিত যাদব ও বিজয় বর্মার পরিবারের সদস্যরা হাজির ছিলেন। অন্য তিন মৃত শ্রমিক মহম্মদ নাজিম, উদয় রাজ ও মিঠুন প্রজাপতির পরিবারের কেউ এরাজ্যে না থাকায় তাদের পরিবারের কোন সদস্য এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

Advertisement
----
-----