নোট বাতিলের প্রতিবাদে ৮ নভেম্বর কালা দিবস তৃণমূলের

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আগামী ৮ নভেম্বরকে কালা দিবস হিসাবে পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের অরবিন্দ স্টেডিয়ামে এই কালা দিবস পালনের প্রস্তুতি সভায় দলীয় নেতৃত্বকে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে সতর্কও করে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ত্রিস্তরীয় আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোথাও কোনো ত্রুটি পেলেই প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্বকে কড়া নজর রাখারও নির্দেশ দেন স্বপনবাবু। এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘অনেকেই সংরক্ষণের কোপে নিজেদের আসন হারাতে পারেন এই আশংকায় অন্য আসনে দাঁড়ানোর জন্য তদ্বির শুরু করেছেন। কিন্তু এভাবে দলীয় প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হবে না। দলীয় আনুগত্য ও যোগ্যতার বিচারেই তাদের প্রার্থী করা হবে।’’

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে আসা বিভিন্ন নেতৃত্বকে তৃণমূলে নেওয়া হলেও তাদের এতদিন কোনও পদ দেওয়া হয়নি। এদিন কংগ্রেস ছেড়ে আসা স্বপন সিনহা, তন্ময় সিংহ রায়, অভিজিত সোম, তফিজুল ইসলাম, আনোয়ার হক মণ্ডল এবং প্রশান্ত লাহাকে তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে। আব্দুল হাকিম, মহম্মদ মহসিন এবং দীনবন্ধু পাল, বিশ্বজিত মজুমদার, মহম্মদ ইলিয়াস, স্বপন তা, মহম্মদ সিরাজ মুন্সীকে সহ সভাপতির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জন্মেঞ্জয় তা-কে সাধারণ সম্পাদক এবং কল্যাণী মুখোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদিকা করা হয়েছে। কংগ্রেসে থাকাকালীন এঁরা এই সমস্ত পদেই ছিলেন।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে আসা ফিরোজ আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে। স্বপনবাবু জানান, ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের কালা দিবস উপলক্ষ্যে বর্ধমান শহরে বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। বর্ধমান ষ্টেশন এবং উত্সব ময়দানে দুটি মিছিল জমায়েত হয়ে কার্জন গেটে মিছিল শেষ হবে। এদিন এই সভায় হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু সহ জেলার বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলার, জেলা পরিষদের সদস্য সহ জেলা নেতৃত্বরাও। সভাধিপতি এদিন দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন, ৮ নভেম্বর বর্ধমান শহরকে অচল করতে হবে। তাই বর্ধমান সদর উত্তর ও দক্ষিণ মহকুমার প্রত্যেক ব্লক থেকেই প্রচুর সংখ্যক সমর্থকদের হাজির করার নির্দেশ দেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক উত্তম সেনগুপ্ত বলেন, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। কিন্তু কোথাও কোথাও এখনও পরস্পরের প্রতি দোষারোপের পালা চলছে। অনেক নেতাই জেলা কমিটিকে বাদ দিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রত্যেককেই সমস্ত বিভেদ ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিনের সভায় এই দুই মহকুমার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয় দলের ব্লক সভাপতিদের কাছে। কোন গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন কত, এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দখলে কটি করে আসন রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। অপরদিকে, এই সভার পর স্বপনবাবুর নেতৃত্বে দলীয় নেতৃত্বরা কার্জন গেটে নোট বাতিলের বর্ষপূর্তিতে কালা দিবস পালন কর্মসূচীর জন্য লিফলেটও বিলি করেন।

Advertisement
----
-----