জানেন এই মন্দিরে কিভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন শিব?

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দেবপাটন গ্রামে বাগমতী নদীর কাছে অবস্থিত পশুপতিনাথ মন্দির৷ এই মন্দিরে ভগবান শিবের পশুপতি স্বরূপ উঠে এসেছে৷ নেপালে শিবের সবথেকে পবিত্র স্থান হিসেবে মনে করে হয় এই মন্দিরকে৷ হিন্দুধর্মের আটটি সবথেকে পবিত্রভূমির মধ্যে এটি একটি৷

আরও পড়ুন: শিবের বোনকে কৈলাশ থেকে কেন তাড়িয়ে দিয়েছিলেন পার্বতী?

এই মন্দিরে হাজার হাজার ভক্ত আসেন মহাদেব দর্শনের জন্য, যার মধ্যে ভারতীয়ের সংখ্যাই নাকি সবথেকে বেশি৷ এই মন্দিরে ভারতীয় পূজারিও রয়েছেন৷ প্রধান মন্দিরের অনেক নকলও পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠে৷ ভক্তপুর(১৪৮০), ললিতপুর(১৫৬৬), বেনারস(১৯শতকের প্রারম্ভ) প্রমুখ রয়েছে এই তালিকায়৷ মূল মন্দির বহুবার নষ্ট হয়৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: কিভাবে ঔরঙ্গজেবের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল কাশী বিশ্বনাথের শিবলিঙ্গ?

স্থানীয় প্রচলিত কথা অনুসারে, ভগবান শিব একবার বারাণসীর অন্য দেবতাদের ছেড়ে বাগমতী নদী তীরে মৃগস্থলীতে চলে যান, যা বাগমতীর অন্য তীরের জঙ্গলের মধ্যে৷ সেখানে হরিণের বেশ ধারণ করে ঘুমোতে চলে যান তিনি৷ যখন দেবতারা তাঁকে ফইরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তখন তিনি নদীর অপর প্রান্তে লাফ দিয়ে চলে যান৷ শোনা যায়, এই সময় তাঁর শিং ভেঙ্গে চার টুকরো হয়ে যায়৷ এরপরেই তিনি চতুর্মুখ লিঙ্গের রূপে দেখা দেন৷

আরও পড়ুন: জানেন কেন শিবের প্রত্যেকদিনের যাতায়াতে ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন ঋষিরা?

পশুপতিনাথ লিঙ্গ বিগ্রহতে চারদিকে চার মুখ এবং উপরিভাবে পঞ্চম মুখ রয়েছে৷ প্রত্যেক মুখের ডানদিকের হাতে রুদ্রাক্ষের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডল রয়েছে৷ প্রতিটি মুখের পৃথক পৃথক গুণ৷ প্রথমটি অঘোর মুখ, যা দক্ষিণ দিকে রয়েছে৷ পূর্বের মুখকে তৎপুরু, বলা হয়৷ উত্তর মুখের নাম অর্ধনারীশ্বর৷ পশ্চিম মুখ হল সদ্যোজাত৷ এবং উপরিভাগের মুখকে ইশান বলা হয়৷ এটি নিরাকার, যা পশুপতিনাথের শ্রেষ্ঠতম মুখ বলে মনে করা হয়৷

Advertisement ---
---
-----