মুর্শিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার এক

স্টাফ রিপোর্টার, মুর্শিদাবাদ: ফের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার এক৷ ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীর টলটলি ঘোষপাড়া এলাকার৷ ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ১১ টি আগ্নেয়াস্ত্র৷ ধৃতের নাম নজরুল মন্ডল৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জলঙ্গীর টলটলি ঘোষপাড়া এলাকায় টহল দিচ্ছিল৷ সেই সময় এক ব্যক্তিকে ওই এলাকায় সন্দেহভাজন অবস্থায় ঘুরতে দেখে পুলিশ৷ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ৷ তার কথায় অসঙ্গতি থাকায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে আটটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি মাসকেট৷ এছাড়াও দশটি ম্যাঙ্গানিজ, ২১ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম তাজা কার্তুজ, পাঁচ রাউন্ড ০.৩০৩ কার্তুজ, আট রাউন্ড ০.১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ৷ শুক্রবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ ১২দিনের হেফাজতের আবেদন জানান৷

- Advertisement -

পুলিশ ধৃতকে জেরা করে জানতে পেরেছে, ধৃত নজরুল মণ্ডলের বৌদি সোনিয়া মণ্ডল আগ্নেয়াস্ত্র পাচারে মুল মাথা। নজরুলকে সে বাহক হিসাবে ব্যাবহার করত। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি সোনিয়া মণ্ডল বিহারের মুঙ্গেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে এসেছিল। বাড়ির পিছনে একটি জায়গাতে একটি ব্যাগে করে এগুলি মজুত করা হয়েছিল। নির্বাচনে এগুলিকে বিক্রি করার জন্য মজুত করা হয়েছিল বলে জানান পুলিস সুপার।

আগ্নেয়াস্ত্রগুলি এখানে ৩৪ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করছিল৷ সেই সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের মূল মাথা ধৃতের বৌদি সোনিয়া মণ্ডলকে পুলিশ ধরতে পারেনি। তাকে ধরার জন্য তল্লাশি শুরু করেছে। সোনিয়া মণ্ডলের স্বামী আগে এই কাজে যুক্ত ছিলেন বর্তমানে কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন। সেই সূত্র ধরে সোনিয়া এই ব্যবসা শুরু করে। এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি মুঙ্গেরে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে আনে।

ভোটের আগে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার বন্ধ করার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ-এর সঙ্গে এই বিষয়ে মিটিং করা হয়েছে। এছাড়াও দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং শুরু হয়ে গিয়েছে।