গলা জলে ডুবে থাকা ‘দেশপ্রেমিকে’রও নাগরিকত্ব নেই

গুয়াহাটি: জানা নেই আর কত প্রমাণ দিতে হবে৷ স্বাধীনতা দিবসে এক গলা জলে ডুবে দেশের জাতীয় পতাকা তুলে স্যালুট করেও বাদ পড়ে যেতে হচ্ছে এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া থেকে। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল৷ প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে গলা-জলে দাঁড়িয়ে সেলাম ঠুকছে খুদে দুটি ছাত্র। অসমে বন্যার জলে ডুবে থাকা প্রাথমিক স্কুলেও দেশের পতাকা উঠেছিল। ঠিক আর একটা স্বাধীনতা দিবস যখন এসে গেল তখনই দেখা গিয়েছে ওই দুই ছাত্রের এক জন, হায়দর আলি খান অদ্ভূত ভাবে আপাতত ‘দেশহীন’।

এ বছর ৩০৬ ফুট উচ্চতায় পতাকা উড়িয়ে চমক দিতে চাইছে গুয়াহাটির গাঁধী মণ্ডপে কিংবা বাক্সার গোরেশ্বরে যখন সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ তেরঙা বানিয়ে জাতীয় নজির গড়ার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই উঠে এল এমন বিরল ঘটনা৷ ২০১৭ সালের ১৫ অগস্টের পর যে ছোট্ট ছেলেটা দেশপ্রমিকের প্রতীক হয়ে উঠেছিল বছর ঘুরতে না ঘুরতে তার নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে৷ এই হায়দর আলি খানের বাবা জঙ্গিদের গুলি মারা যান। তবে মা জাইবন খাতুন, দাদা জাইদর আর বোন রিনার নাম রয়েছে নাগরিক পঞ্জিতে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়ে গিয়েছেন হায়দর।

গত বছরে সেই এক গলা জলে দাড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করায় হায়দরের সঙ্গী তথা বন্ধু জিয়ারুল এখন যতটা ছটফটে, হায়দর ঠিক ততটাই চুপচাপ হয়ে গিয়েছে। ওরা দুজনেই সাঁতারে খুবই দক্ষ। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে নসকরা নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার জলে ডুবে গিয়েছিল আর তখন ওই দুই খুদে সাঁতারু জলে ঝাঁপ দিয়ে চলে গিয়েছিল স্কুলের সামনে একেবারে পতাকাস্তম্ভের কাছে। তাদের সঙ্গে ওইখানে একে ভাবে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক তাজেম শিকদারও।

- Advertisement -

ওই অবস্থায় স্কুলের বাকি শিক্ষক ও ছাত্রদের একেবারে ওইখানে পৌঁছন সম্ভব হয়নি ফলে বিদ্যালয়ের কাছে উঁচু রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে সামনে জলে মধ্যে দাড়িয়ে সেখানে পতাকা উত্তোলন করে স্যালুট করে শিক্ষক ও তাঁর দুই ছাত্র৷ তারপর সেখানে জাতীয় সঙ্গীত শুরু হলে বাকী শিক্ষক ছাত্রেরাও গলা মেলান। তাঁদের দেখে দাড়িয়ে গিয়ে আরও কিছু পথ চলতি লোক দাড়িয়ে গিয়ে গলা মেলায় ভিড় জমে যায়। এরপর এক শিক্ষক মিজানুর রহমান ওই ছবি তুলে পোস্ট করেছিলেন নিজের ফেসবুকের পাতায়। তারপরের গোটা দেশে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ছবি এবং বন্যার জলে মধ্যে এমন ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনে ছবি দেখে অভিনন্দনে বন্যা বয়ে যায় ওই শিক্ষক-ছাত্রদের জন্য।

Advertisement
---