মেয়ের কাছে ‘বেস্ট’ বাবা! ৮২ জন মহিলাকে ধর্ষণ-খুন করেছে এই সিরিয়াল কিলার

ঠিক কতজনকে ধর্ষণ আর খুন করেছেন? আদালতে এই প্রশ্নটাই করা হয়েছিল তাকে। উত্তর দিতে গিয়ে থতমত খেয়ে যায় মিখাইল পপকভ। বলে, ‘ঠিক বলতে পারব না। আমি তো হিসেবে রাখিনি’। সম্প্রতি জানা গিয়েছে সেই সংখ্যাটা। ৮২ জন মহিলাকে খুন করেছে পপকভ। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে।

২০১৫-তে সিরিয়াল কিলিং-এর অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয় পপকভকে। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার শান্ত শহরে ২২ জন মহিলাকে খুন করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অনেককে খুন করার পর তাদের ধড় আর মুণ্ডু আলাদা করে ফেলেছিল এই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার। অনেকের দেহ ছিঁড়ে বের করে এনেছে হার্ট। প্রত্যেককে খুন করার আগে ও পরে ধর্ষণ করা হয়েছে। একেকজনের দেহ চরম বিকৃত করা হয়েছে।

এ ব্যক্তি এতটাই সাংঘাতিক যে, নিজের মেয়ের স্কুলের শিক্ষিকাকে খুন করে তারই শেষকৃত্যের জন্য টাকা দিয়েছিল। পেশায় পুলিশ এই ব্যক্তি পুলিশের গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে খুন করে দুই ছাত্রীকে। অদ্ভুত ব্যাপার হল, পুলিশের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে খুন করা ছেড়ে দেয় ওই ব্যক্তি। তার যুক্তি অনুযায়ী, ওইসময়ের পর যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে। যদি এইসব খুনে পপকভ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই হবে বিশ্বের ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম সিরিয়াল কিলার।

পপকভের মেয়ে মানতে নারাজ যে বাবা একজন খুনি। মেয়ের কাছে পপকভ ‘বেস্ট’ বাবা। স্কুল শেষে মেয়েকে আনতে যাওয়া, একসঙ্গে গাড়ির মডেলের কালেকশন বানানো সবই করেছে। শুধু তাই নয়, পেশাগত জীবনেও বেশ সুনাম ছিল পপকভের। শুধু একবার এক ধর্ষণকারীকে খুন করে দিয়েছিল পুলিশের উর্দি পরেই। তাতে কোনও শাস্তি হয়নি পপকভের। যদিও তার এই অপরাধের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সম্ভবত স্ত্রী’র অবৈধ সম্পর্কের জেরেই মাথা বিগড়ে যায় পপকভের। হঠাৎ একদিন মনে হয় যেভাবেই হোক একজন মেয়েকে খুন করতে হবে। সেই শুরু। এরপর থেকে রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশের পোশাকে, পুলিশের গাড়ি নিয়ে নাইটক্লাবের সামনে অপেক্ষা করত পপকভ। কোনও মেয়ে একা বেরোলেই তাকে সাহায্য করার নামে গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে খুন করে দিত। তারপর বিকৃত দেহ পুঁতে দিত রাস্তার পাশে।

Advertisement
---
-----