সুপ্রিম ধাক্কায় মাথায় হাত অনলাইন বাজি বিক্রেতাদের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বেশ চলছিল প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়াকে’-আগলে অনলাইনে বাজি বিক্রির ব্যবসা, বাধ সেধেছে সুপ্রিম কোর্ট। অনলাইন আতসবাজি বিক্রি নিষেধাজ্ঞায় মাথায় হাত পড়েছে বেশিরভাগ অনলাইন আতসবাজি বিক্রির সংস্থাগুলির। অনেকে আবার রায় বেরোনোর পরেই আউট অফ স্টক দেখিয়ে দিয়ে ওয়েবসাইট বন্ধ করেছেন।

অনলাইনের যুগ। গাড়ি, বাড়ি, গো-মূত্র সবই পাওয়া যায় অনলাইনের মাধ্যমে। বছর পাঁচেক ধরে আতসবাজিও ভালোই বিক্রি শুরু হয়েছিল অনলাইনে। দোকানে পসরা সাজিয়ে বাপ কাকার বাজির ব্যবসা যারা করছিলেন তারাই আর স্থানীয় হয়ে থাকতে চাননি। অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেন। অনালাইন ব্র্যান্ডেড আতসবাজিরা অধিকাংশই বাংলার বাইরের। এঁরা প্রত্যেকেই ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। অনলাইন ব্যবসা তুলে নেওয়াই এখন একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন সংস্থার কর্ণধাররা।

কক ব্র্যান্ড। দক্ষিণভারতের তামিলনাড়ুর এই আতসবাজি তৈরির সংস্থা। চড়কি, পটকা, রকেট, ফুলঝুড়ি, রংমশালসহ চকোলেট বোমা সবরকম বাজির স্টক রয়েছে সংস্থার। ৩৫০০ টাকার নীচে এঁরা অনলাইন মারফৎ অর্ডার নেন না। বলতে গেলে অনেকটা অনালাইন পাইকারি বাজি বিক্রেতা শ্রীনিবাসের সংস্থা। কর্ণধার বলেন, “সমস্যার সবে তো শুরু হল। হয়তো অফলাইনে ইমপোর্ট, এক্সপোর্টের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনলাইনে ব্যবসা মানে সারা ভারতে সেটা করা যেত। সেটা হবে না। দেখি কি করা যায়। সবেমাত্র রায় দেওয়া হয়েছে। আচমকা হয়েছে ব্যপারটা। এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি কি করব।”

ফেস্টিভ জোন সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পরেই ‘আউট অফ স্টক’ লিখে তাদের ওয়েবসাইট থেকে কেনাবেচা বন্ধ রেখেছে। যোগাযোগ করা হলে জানানো হল, তাঁরা আর অনলাইনে ব্যবসা করছেন না।

‘ক্রেকার মার্ট’ অনলাইন আতসবাজি বিক্রির ওয়েবসাইটটিও বেশ গুছিয়ে সাজানো গোছানো। কালিকট থেকে কলকাতা সর্বত্র অনালাইনে আতসবাজি বিক্রি করে এই সংস্থা। ভারতের সমস্ত শহর জেলা সর্বত্র যায় এই সংস্থার বাজি। সুপ্রিম কোর্টের আনলাইনে আতসবাজি বিক্রি হওয়া নিষেধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তাঁদের ওয়েবসাইটে লিখে দেন যে ‘এই মুহূর্তে তাঁরা আর কোনও অর্ডার নিচ্ছেন না।” সংস্থা ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার নীচে অর্ডার নেয় না। কর্ণধার আইয়ারি সমন্ত বলেন “ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছি। অনালাইনে আর বিক্রিও করবো না।”

শিবাকাশি পটাকার কর্ণধার শিবপ্রকাশ বলেন, “এমন ভাবে দেওয়ালির আগে কোর্ট এমন রায় দেবে ভাবতে পারিনি। প্রচুর ক্ষতি হবে। অনালাইনে বিক্রি আজ থেকেই বন্ধ করেছি।”

----
-----