‘রাজ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ এনআরসি হয়েছে’

গুয়াহাটি: গোটা প্রক্রিয়াটাই স্বচ্ছ৷ সাধারণ মানুষের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই৷ ফের একবার রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে একথা বললেন অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা৷ তাঁর মতে এখনও আতঙ্ক ছড়ানোর কোনও কারণ নেই৷ সবে মাত্র এনআরসি-র ৩০ শতাংশ তালিকা প্রস্তুত হয়েছে৷

এখনও অনেক পথ চলার বাকি বলে মত তাঁর৷ সরকার আপাতত এক তৃতীয়াংশ কাজ করতে পেরেছে৷ যখন পুরো কাজ সম্পন্ন হবে, তখন মানুষের মন থেকে ভয় দূর হবে বলে ধারণা করছেন হিমন্ত৷ তাঁর আশা, মানুষের ধারণাও বদলে যাবে এই এনআরসিকে ঘিরে৷ এখনও কোনও সিদ্ধান্তে আসার দরকার নেই বলেও জানাচ্ছেন তিনি৷

অসমের পূর্ত মন্ত্রী হিমন্ত বলছেন এই গোটা প্রক্রিয়ায় কোথাও জাত পাত বা ধর্মের কোনও প্রভাব নেই৷ সবটাই হচ্ছে নথির ওপরে ভিত্তি করে৷ তাই আতঙ্কিত হওয়ার বা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুর টেনেই তিনি বলেন এনআরসি আসলে অসম অ্যাকর্ডেরই আরেক রূপ৷
দিন কয়েক আগেই রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, ‘‌এনআরসি তৈরি করা হয়েছে শরণার্থীদের চিহ্নিতকরণের জন্য। ১৯৮৫ সালে এই উদ্দেশ্যেই রাজীব গান্ধী অসম অ্যাকর্ড তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটা কার্যকর করার সাহস দেখাতে পারেননি। মোদি সরকার সেই সাহস দেখাতে পেরেছে।’‌

অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। বিরোধীরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হইহট্টোগোলের জেরে দিনের মত মুলতুবি হয়ে যায় রাজ্যসভার অধিবেশন। প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই যে এনআরসির দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়৷ তাতে অসমের ৪০ লাখ বাসিন্দার নাম বাদ পড়ে। তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে। অসমে এদের এখন সরাসরি ‘অবৈধ বিদেশি’ বলেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।

----
-----