স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: ভাসছে কেরল৷ সেখানে কাজে গিয়ে বিপন্ন রাজ্যের মানুষ৷ এবার রাজ্যের মানুষকে সহায়তা করতে মাঠে নামলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ রাজ্যের বাইরে কাজের বিনিময়ে বেশি টাকা পাওয়ার আশায় বহু মানুষই কেরলে যান৷

কিন্তু সেখানে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে এখন দিশেহারা কেরলে আটকে পড়া রাজ্যবাসী৷ তবে যাতে রাজ্যবাসীকে প্রবল সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠালেন অধীরবাবু৷

Advertisement

আরও পড়ুন: জমিদারি মজলিশে হিট লুচি

প্রসঙ্গত, বন্যাদুর্গত কেরলে কন্ট্রোল রুমগুলিতে দোভাষী লোক রাখতে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। সোমবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, এই বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করতে কেরলে যান। এবারও সেখানে এই বছরও বাংলার বহু মানুষ কেরলে কাজে গিয়েছেন৷

কিন্তু সেখানে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। এক দিকে সেখানকার ভাষা তাঁরা বোঝে না তো অন্যদিকে সেখানকার মানুষও হিন্দি বোঝে না। তাই কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে এই বিষয়ে অবগত করে কন্ট্রোল রুমগুলিতে দোভাষী লোক রাখার আবেদন করেন তিনি৷

আরও পড়ুন: নয়া রেকর্ড সেনসেক্স, নিফটি-র

পাশাপাশি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘এই বাংলাকে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব বাংলা বলেন৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী কেরলে কর্মরত মানুষদের তেমন খোঁজ নিচ্ছেন না। সেখানে খোঁজ নিতে গেলে সকলে বুঝতে পেড়ে যাবে, এই বাংলা যদি বিশ্ব বাংলা হয় তবে তাঁরা কেন কেরলে কাজের টানে আসেন। বন্যাদুর্গত কেরলে অন্য রাজ্যগুলি যখন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, ঠিক তখনই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অর্থ সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন।’’ কেরলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।

আরও পড়ুন: কেরলে আটকে পড়া জলপাইগুড়ির শ্রমিকদের উদ্ধারের আর্জি

আরও পড়ুন: খাবার বা কাপড় নয়, কেরলের জন্য চাই অন্য কিছু: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

অন্যদিকে, একই দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেলা শাসক পি উলগানাথন৷ তিনি বলেন, ‘‘পিছিয়ে পড়া জেলা মুর্শিদাবাদ৷ এখানে তেমন কোনও শিল্প না থাকায় বেকার যুবক ও বহু দিনমজুর পাড়ি দেন ভিনরাজ্যে। বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বহু মানুষ জীবিকার টানে পাড়ি দিয়েছে কেরলে৷ কিন্তু সেখানে বন্যার কবলে পড়ে তাঁরা এখন অসহায়৷

আরও পড়ুন: প্রাথমিক স্কুলে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

আরও পড়ুন: আর চিন্তা নেই, এবার ১০০ জিবি ডেটা একেবারে ফ্রি

লাগাতার বৃষ্টির জেরে কাজ হারানো অন্যদিকে ভয়ানক বন্যা। বন্যার ফলে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ বাড়ি ফিরতে না পাড়ায় উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে এই সমস্ত শ্রমিকদের পরিবার। এই উৎকন্ঠা থেকে স্বস্তি দিতে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় প্রতিটি ব্লক অফিস ও এসডিও অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই কন্ট্রোল রুমগুলিতে এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে চার হাজার পরিবার আবেদন করেছেন। এই সমস্ত আবেদন স্বরাষ্ট মন্ত্রককে পাঠানো হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: বিষধর সাপ নিয়ে তিনদিনের ঝাপান উৎসব

----
--