শিলং: বৃষ্টি থামলেও এখনও মূল স্রোতে ফিরতে ঢের দেরি কেরলের। এত মৃত্যু, এত ক্ষতি সামলে তারা যখন ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ঠিক তখনই দুঃসংবাদ আসছে দেশের অন্য রাজ্য থেকে। মহারাষ্ট্র, কেরল, অরুণাচল, অসমের পর এবার মেঘালয়। তালিকা যেন বেড়েই চলেছে।

এদিন অরুণাচল প্রদেশের ১৯ জন মানুষকে বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করে বিমানবাহিনী। পাশাপাশি অসমের ধেমাজি জেলার ২০০ জন মানুষকে উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে এবারের বর্ষা যেন ধুয়ে মুছে দিচ্ছে সব কিছু। এবার মেঘালয়ের তিনটি জেলায় বন্যা-সতর্কতা জারি করল প্রশাসন। চিনের সাংপো নদীর প্রবল জলপ্রবাহের কারনেই অরুণাচল প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইটানগর থেকে নিজে এই উদ্ধারকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন অরুনাচলের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা কুন্ডু। তিনি বলেন, লোকসভার সাংসদ নিনং ইরিং এবং পশ্চিম পেসিঘাটের বিধায়ক তাতুং জামোহ পুলিশের সাথে সর্বক্ষণ থেকে গবাদিপশুগুলিকে উদ্ধারের কাজে সাহায্য করছেন।

ধেমাজী প্রশাসন সূত্রে খবর, শিশুসহ প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চিনা প্রশাসন জানিয়েছে,এবছর সে দেশেও প্রবল বৃষ্টির কারনে সাংপো নদী প্রায় ৯,০২০ কিউমেক জল ছেড়েছে।

সিয়াং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে তার পূর্ব ও উচ্চ অঞ্চলের জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, ধেমাজী, লখিমপুর এবং আসামের দিব্রুগড়।

অরুণাচলের বিধায়ক লম্ব তায়েগ জানিয়েছেন, পূর্ব সিয়াং-এর মেবো অঞ্চল থেকে প্রায় হাজারটি পরিবারকে উদ্ধার করা গেছে। বন্যার কারণে সেরম-রামকু গ্রামের প্রায় ১৫টি পরিবার গ্রহহীন হয়েছেন। তায়েগ জানিয়েছেন, পুনর্বাসনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে এক লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজুজুকে একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন পাশাপাশি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এর আগেই সিয়াং-এ সাঁতার কাঁটা বা মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন। কেন্দ্রীয় জল কমিশন সূত্রে খবর, সিয়াং নদী বিদ্ধংসী হয়ে উঠেছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে অসমের লখিমপুর এবং দিব্রগড় বিপুল ক্ষতির মুখে। ইনল্যান্ড ওয়াটার ডিপার্টমেন্ট মানুষকে উদ্ধার করার জন্য নৌকা তৈরি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের তরফেও বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সবধরনের প্রস্তুতির দিকে নজর রাখা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের পশ্চিম গারো,উত্তর গারো ও দক্ষিন পশ্চিম গোরো পার্বত্য অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনারদের সব ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

----
--