বোকো হারাম হামলার পর এখনও নিখোঁজ ৪৬ ছাত্রী

আবুজা: নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম হামলার পর এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জন ছাত্রীর হদিশ মেলেনি৷ নাইজেরিয়া সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নাইজেরিয়ার ইয়োবে সপ্তাহের শুরুতেই হামলা হয়েছিল৷ সেই হামলা করে জেহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম৷

এই হামলা করা হয় ইয়োবের সবকটি মহিলা কলেজে৷ এরপর জানা যায় প্রায় একশো ছাত্রীর কোনও খোঁজ মিলেনা৷ নাইজেরিয়া সরকার তল্লাশি শুরু করে ডাপচির গভর্নমেন্ট গার্লস টেকনিকাল কলেজে৷ এর মাঝে খবর মেলে বেশকিছু ছাত্রীকে পণবন্দি করা হয়েছে৷ নাইজেরিয়া সরকারের তরফে জানান হয় মঙ্গলবার ২৮ জন ছাত্রী সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে৷ এরপর আরও ২০ জন ছাত্রী ফিরেছে বুধবার ভোরে৷

নাইজেরিয়ার ইয়োবের শিক্ষামন্ত্রী মহম্মদ লামিন জানিয়েছেন “সরকার আশা করছে বাকি ছাত্রীদেরও খোঁজ মিলবে খুব শিঘ্রই৷ তাঁরাও খুব তাড়াতাড়িই ফিরে আসবেন৷” জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের সোমবারের হামলায় তারা মহিলা কলেজগুলিতে হামলা চালায় ও খাদ্যদ্রব্য লুঠ করে বলে জানা গিয়েছে৷ ছাত্রীরা এই হামলা থেকে বাঁচতে কলেজের পাশের ঝোপে লুকিয়ে পড়ে বলে খবর৷ যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই এই ঘটনায় কিন্তু ছাত্রীদের নিঁখোজ থাকার ঘটনা এখনও চিন্তায় রেখেছে নাইজেরিয়া সরকারকে৷

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, দশজন মহিলাকে মুক্তি দেয় বোকো হারাম জঙ্গিরা৷ তার পাশাপাশি মুক্তি দেওয়া হয় তিনজন অধ্যাপককে৷ ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে এদের পণবন্দি করে বোকো হারামের জঙ্গিরা৷ কয়েকদিন আগেই পণবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয় নাইজেরিয়া সরকার ও বোকো হারামের প্রতিনিধির মধ্যে৷

নাইজেরিয়ার ইসলামিক জঙ্গিদের হাতে বন্দি হন অধ্যাপকরা৷ ২০১৭ সালেই নাইজেরিয়ান ন্যাশনাল পেট্রোলিয়ামের তরফে লেক চাঁদ এলাকায় তেল উত্তোলনের কাজে যুক্ত ছিলেন এই অধ্যাপকরা৷ তখনই তাদের অপহরণ করে জঙ্গিরা৷ এই সংঘর্ষে আরও জনা কয়েক অধ্যাপকের প্রাণ যায়৷

গত বছরেই মইদুগুড়ির দামবোয়া এলাকায় সেনা ও পুলিশের কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১০ জন মহিলাকে বন্দি করে বোকো হারাম৷ সংবাদপত্রে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এদের মুক্তি পাওয়ার ঘোষণা করে নাইজেরিয়া সরকারের মুখপাত্র৷ সঙ্গে তিনি এও জানান, মূলত প্রেসিডেন্ট মুহামমাদু বুহারির সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার সফল উদাহরণ এই মুক্তি৷

স্টেট সিকিওরিটি সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে এই মুক্ত পণবন্দিদের রাখা হয়৷ তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়৷ ওই ১৩ জন পণবন্দিকে রাজধানী আবুজার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ চিকিৎসকের পাশাপাশি, তাদের ভীতি কাটাতে মনোবিদের ব্যবস্থা করে সরকার৷ তাঁরা প্রত্যেকে প্রেসিডেন্ট বুহারির সঙ্গে দেখা করবেন বলেও খবর মিলেছিল৷

Advertisement
---