রাতভর বিঘের পর বিঘে জমিতে তাণ্ডব দলমার দাঁতালদের

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দলমার দামালদের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেল বেশ প্রায় ষাট-সত্তর বিঘা আলু সহ মরশুমী সবজি৷ ঘটনাটি বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় বিট এলাকার বৃন্দাবনপুর, রাউতোড়া এলাকায়। এই ঘটনায় মাথায় হাত এলাকার চাষীদের।

গত কয়েক দিন আগেই পাঞ্চেত ডিভিশন থেকে দ্বারকেশ্বর নদী পেরিয়ে চারটি শাবক সহ তিরিশটি হাতির দল সোনামুখীর মানিকবাজার এলাকায় ঢুকে পড়ে। বনদফতরের কর্মীরা হুলাপার্টির সাহায্য নিয়ে ঐ হাতির দলটিকে বেলিয়াতোড় রেঞ্জের দিকে নিয়ে যান। সোনামুখীর মানিকবাজার এলাকায় দলমার দামালরা সেভাবে কোন ক্ষয়ক্ষতি না করলেও বেলিয়াতোড় রেঞ্জে পৌঁছেই বৃহস্পতিবার রাতে আলু সহ অন্যান্য মরশুমী সব্জীর ক্ষেতে হামলা চালায়।

- Advertisement -

এই এলাকার অন্যতম অর্থকরী ফসল আলু। ধান চাষের পাশাপাশি এই এলাকার সিংহভাগ মানুষ মূলত আলু চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। শুক্রবার সকালে ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বেশ কয়েক বিঘা জমির আলু হাতি আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত। যে পরিমান আলু খেয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশী পায়ের চাপে নষ্ট হয়েছে। যতোক্ষণ না পর্যন্ত্য হাতির দলটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা রাতে বাড়িতে শান্তিতে ঘুমোতেও পারবেননা। এমনটাই গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে এই এলাকা দিয়ে হাতি পার করে নিয়ে যাওয়ার খবর থাকলেও তাদের এবিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। গভীর রাতে বাড়ির উঠোনে পর্যন্ত্য হাতি ঢুকে গিয়েছিল। সারা রাত ধরে গ্রামের মাঠে হাতির দলটি তাণ্ডব চালিয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।

গ্রামবাসী মনসারাম লোহার, গুরুদাস সিংরা বলেন, ‘আগাম খবর পেলেও সতর্ক থাকা যেত। রাতে ঘুম ভেঙে বাড়ির বাইরে বেরোতেই দেখি উঠোনে চার পাঁচটি হাতি ঘোরাঘুরি করছে। বনদফতরের পক্ষ থেকে হুলা বা জোরালো আলোর সরবরাহ কিছুই করা হয়নি। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে খড়ে আগুন জ্বেলে গ্রামের মানুষই গ্রাম থেকে হাতির দলকে তারা বের করেছেন। সন্ধ্যের পর থেকে হাতির আতঙ্ক নিয়েই রাত কাটাতে হবে।’

প্রশাসনকে বলেও কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি বলেও গ্রামবাসীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনের সাহায্য না মিললে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে নিজেদের স্বার্থে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হাতির দলকে এলাকা ছাড়া করবেন, দাবী এলাকার চাষীদের।

যদিও বনদফতরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বনাধিকারিক দেবদাস রায় বলেন, হাতির দলটি তাদের নিজস্ব গতিতেই চলছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী আমরা তাদের বাধা দিতে পারিনা।

বনদফতরের পক্ষ থেকে এলাকায় লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিডিওদের এব্যাপারে খোঁজ খবর রাখতে বলা হয়েছে। কোনও ভাবে ঐ হাতির দলটি গ্রামে ঢুকে গেলে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এই মুহূর্তে সাত থেকে আটটি হাতি বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় রয়েছে। বাকি সব হাতিগুলি বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর বিট এলাকায় রয়েছে বলেও বনাধিকারিক দেবদাস রায় জানান।