দেবযানী সরকার: কলকাতা: ‘টুমি হামার কাছে বক্সিং শিখবে ?’

আগ্রহীরা মাথা নেড়ে যদি হ্যাঁ বলতেই- দড়াম করে এক ঘুসিতে তাকে কাহিল করে দিতেন৷ তারপর যদি সেই ছেলে রাজি থাকে তাহলে সেই হত স্নেহের শিষ্য৷ বাকিটা ইতিহাস…বাংলার বক্সিং তথা ভারতীয় মুষ্টিযুদ্ধের প্রাণপুরুষ ছিলেন এমনই৷

Advertisement

রায় পরিবার মানেই বনেদিয়ানা, সঙ্গে দুরন্ত সব কাণ্ডকারখানা৷ এক ভাই বক্সিংয়ে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন, একভাই রয়্যাল এয়ারফোর্সের হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আকাশে জার্মানির বিমানকে নাকানি চোবানি খাইয়েছেন৷ মহানগরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে এমন সব ইতিহাস যা অনেকেরই অজানা৷

ভারতীয়দের বক্সিংয়ের জনক পরেশলাল রায়ের বিশ্বজোড়া নাম থাকলেও অনেকেই জানেননা সাধের বক্সিং গ্লাভসকে সঙ্গে নিয়েই তিনি কফিন বন্দি হয়েছেন৷ ভবানীপুর গোরস্থানে এখনও দেখা যায় একজোড়া বক্সিং গ্লাভস। কব্জির লড়াইয়ে ক্যারিশ্মা দেখিয়ে বিশ্বজোড়া সুনাম পেয়েছিলেন এই বাঙালি বক্সার৷ পরেশলাল রায় বা পিএল রায় নামেই তিনি পরিচিত ৷ দীর্ঘ সময় বিলেতে থাকার সুবাদে তাঁর বাংলা উচ্চারণে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল, কিন্তু ঘুসির দৌলতে তিনি বাঙালির বীরত্বকে চিরস্থায়ী করে গিয়েছেন৷

১৮৯৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্ম হয় পরেশলাল রায়ের৷ জীবনের গোড়ার দিকে লন্ডনের বাসিন্দা৷ লন্ডনেই ১০ বছর বয়স থেকে বক্সিং শেখেন তিনি৷ মাত্র ২১ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ব্যান্টামওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন৷ বক্সিং-এর সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে পড়াশুনোও। কেমব্রিজ বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ পাশ করেন পরেশবাবু। এরপর প্রথম এশিয়াবাসী ছিলেন যিনি কেমব্রিজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রিও করেন। তাঁকে অক্সফোর্ড ব্লু সম্মানে ভূষিত করা। ইংল্যান্ড জুড়ে একের পর এক বক্সিং খেতাব জিততে থাকেন তিনি। প্রথম ভারতীয় ও একমাত্র বাঙালি হিসেবে তিনি জিতে নেন ইংল্যান্ডের ব্যানটাম ওয়েট চ্যাম্পিয়ন খেতাব। প্রথম এশীয় হিসেবে পান কেমব্রিজ ব্লু সম্মান।

১৯১৯ সালে কলকাতায় ফেরেন৷ ফিরে এসে রেলে চাকরি করা শুরু করেন৷ কলকাতায় জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তিনি বক্সিং রিং করেন বালিগঞ্জে৷ গড়ে তোলেন বক্সিং ফেডারেশন৷ প্রথম চৌধুরী, ফণীন্দ্র মিত্র তাঁর ছাত্র ছিলেন৷ ভারতীয় বক্সিং দলের অধিনায়কও ছিলেন পি এল রায়৷ তাঁকে ভারতের ফাদার অফ বক্সিং বলা হত৷ তাঁর মৃত্যুর পর শেষ হয়ে যায় ভারতীয় ক্রীড়া জগতের এক অধ্যায়ের। তবে ডি এল খান রোডে ভবানীপুর গোরস্থানে রাখা একজোড়া বক্সিং গ্লাভস দেখার জন্য অনেকেই সেখানে ছুটে যান৷

----
--